অবশেষে প্রতিষ্ঠিত হলো ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’

রাজধানীর সাতটি স্বনামধন্য সরকারি কলেজের উচ্চশিক্ষা ও গবেষণা ব্যবস্থাপনার জন্য অবশেষে ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি’ গঠন করে অধ্যাদেশ জারি করেছে সরকার। আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় রোববার ‘ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটি অধ্যাদেশ, ২০২৬’ গেজেট আকারে প্রকাশ করে।

এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে ঢাকা কলেজ, ইডেন মহিলা কলেজ, সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, কবি নজরুল সরকারি কলেজ, বেগম বদরুন্নেসা সরকারি মহিলা কলেজ, মিরপুর সরকারি বাঙলা কলেজ এবং সরকারি তিতুমীর কলেজ—এই সাতটি প্রতিষ্ঠান নিয়ে নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টি গঠিত হলো।

চূড়ান্ত অধ্যাদেশে উল্লেখযোগ্য একটি পরিবর্তন দেখা গেছে। খসড়ায় সাতটি কলেজকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করার প্রস্তাব ছিল। কিন্তু চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে থেকে সরে এসে বলা হয়েছে, কলেজগুলোর নিজস্ব পরিচয় ও স্বকীয়তা বজায় রেখেই তারা একাডেমিকভাবে ঢাকা সেন্ট্রাল ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যুক্ত থাকবে।

এই বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পথ সুদীর্ঘ ও আন্দোলনমুখর ছিল। কলেজগুলো একসময় জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় এবং পরে ২০১৭ সাল থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ছিল। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা বিভিন্ন হয়রানি ও জটিলতার অভিযোগ তোলেন। এর প্রেক্ষিতে কলেজগুলোর জন্য একটি স্বতন্ত্র বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি দীর্ঘদিন ধরে ওঠে। ২০২৪ সালের পর এই দাবি আরও জোরালো হয় এবং শিক্ষার্থীদের তীব্র আন্দোলনের মুখে ২০২৫ সালের ২৭ জানুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কলেজগুলোর অধিভুক্তি বাতিল করে।

পরবর্তীতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে একটি বিশেষজ্ঞ কমিটি গঠন করে। এই কমিটি প্রাথমিকভাবে কলেজগুলোকে চারটি স্কুলে বিভক্ত করার প্রস্তাব করলেও, কলেজগুলোর শিক্ষক ক্যাডারের সদস্যরা এটির বিরোধিতা করেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেন যে এই কাঠামোয় তাদের পদোন্নতি ও মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ন হতে পারে। তাদের দাবি ছিল কলেজগুলোর স্বাতন্ত্র্য বজায় রেখে অধিভুক্তিমূলক কাঠামোয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা করা। অন্যদিকে, কলেজগুলোর বর্তমান শিক্ষার্থীরা দ্রুত অধ্যাদেশ জারির দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত রাখেন।

এই সব মতামত ও আন্দোলনের প্রেক্ষিতে গত ২২ জানুয়ারি অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অধ্যাদেশের খসড়া অনুমোদন করে। মাত্র দুই সপ্তাহ পর রোববার চূড়ান্ত অধ্যাদেশ গেজেট আকারে প্রকাশিত হলো। নতুন এই বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের মাধ্যমে সাত কলেজের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো।