সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলায় জামায়াতে ইসলামীর এক নেতার বাড়িতে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে গিয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এতে নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার বিকালে উপজেলার গজাইল গ্রামে জামায়াতে ইসলামীর উধুনিয়া ইউনিয়নের আমির আব্দুল আলিম সরদারের বাড়িতে এ হামলার ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেছেন উল্লাপাড়া থানার ওসি সাকিউল আজম।
আহতদের মধ্যে জামেলা বেগম, মেরিনা খাতুন, রোজিনা বেগম ও মারিয়া খাতুনকে উল্লাপাড়ার একটি ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়েছে।
খবর পেয়ে হাসপাতালে আহতদের দেখতে যান জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং সিরাজগঞ্জ-৪ (উল্লাপাড়া) আসনের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান। এ সময় তিনি এই হামলার জন্য বিএনপিকে দায়ী করে দ্রুত জড়িতদের গ্রেপ্তারের দাবি জানান। পাশাপাশি প্রশাসনের বিরুদ্ধে নিষ্ক্রিয়তা ও পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ তোলেন তিনি।
উল্লাপাড়া থানার ওসি সাকিউল আজম বলেন, “সংবাদ পেয়ে উর্দ্ধতন কর্মকর্তাসহ আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। লিখিত অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এর আগে শুক্রবার ভোরে গজাইল বাজারে অবস্থিত উধুনিয়া ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল লতিফের দোকানে হামলার ঘটনা ঘটে। তখন হামলাকারীরা একটি দোকান ও কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে এবং টাকা লুট করে নিয়ে যায়। এই ঘটনায় মামলা হলে শনিবার সন্ধ্যায় ইউনিয়ন জামায়াতের আমির আব্দুল আলিম সরদার এবং সেক্রেটারি আব্দুল কাদের খন্দকারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রোববার তাদের আদালতে পাঠানো হলে উভয়ই জামিন লাভ করেন।
জামায়াত নেতার বাড়িতে হামলার বিষয়ে ঘটনাস্থলে উপস্থিত উল্লাপাড়া উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিব নিক্সন কুমার রাতে বলেন, “সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকে উপজেলার বিভিন্ন স্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের মারধর, বাড়িঘরে অবরুদ্ধ করে রাখা, দোকানপাটে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাট করা হচ্ছে। তাদের খোঁজখবর নিতে মোটরসাইকেল নিয়ে নেতাকর্মীরা একত্রে বের হয়েছিলাম। কয়েকটি ইউনিয়ন ঘুরে বিকালের দিকে আমরা উধুনিয়ায় ইউনিয়ন যুবদলের নেতা আব্দুল লতিফ সরকারের বাড়িতে যাই। সেখান থেকে ফেরার পথে আমরা জামায়াত নেতা আব্দুল আলিম সরকারের বাড়ির সামনে দিয়ে যাচ্ছিলাম।”
যুবদল নেতা আরও দাবি করেন, “এ সময় আমাদের লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করা হয়। তখন আমাদের নেতাকর্মীরাও পাল্টা ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে। আমি তাদের নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করি। তবে কেউ জামায়াত নেতার বাড়িতে গিয়ে হামলা বা ভাঙচুর করেনি।”
