দেশের নাগরিকদের এখন ১৬ বছর বয়স পূর্ণ হলেই জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। রোববার ইসির এনআইডি অনুবিভাগ থেকে এ সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করা হয়েছে।
পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন আইন, ২০১০ (২০১৩ সালে সংশোধিত)’ এর ধারা ৫-এর আলোকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। যেসব বাংলাদেশি নাগরিকের আবেদনের তারিখে বয়স ১৬ বা ১৭ বছর পূর্ণ হয়েছে কিংবা হবে, তাদের নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনা করবে নির্বাচন কমিশন।
এর আগে গত ৯ সেপ্টেম্বর নির্বাচন ভবনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ইসি সচিব আখতার আহমেদ এই উদ্যোগের কথা জানান। তিনি ব্যাখ্যা করেন, ১৬ বছর বয়স হলেই জাতীয় পরিচয়পত্রের জন্য নাগরিকদের নিবন্ধন তথ্য সংগ্রহ করা হবে। পরে তাদের বয়স যখন ১৮ বছর পূর্ণ হবে, তখন তারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবেন।
ইসি সচিব বলেন, “যাদের বয়স ১৬ বছর হয়েছে, তারা এখন নিবন্ধন করতে পারবেন। এর মাধ্যমে আমরা অগ্রিম তাদের কিছু তথ্য সংগ্রহ করে রাখতে পারবো এবং তারা একটি এনআইডি কার্ড পাবেন।”
তিনি এই বয়সীদের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রের বিভিন্ন প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। আখতার আহমেদ বলেন, “শিক্ষার্থীদের অনেক কাজে এনআইডির প্রয়োজন হয়। যেমন—উচ্চশিক্ষার জন্য বিদেশে যাওয়া, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, চিকিৎসার জন্য বিদেশ ভ্রমণসহ নানা ছোটখাটো কাজে এটি দরকার হয়। এনআইডি না থাকায় শিক্ষার্থীদের প্রায়ই নানা অসুবিধায় পড়তে হচ্ছে। তাই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
তিনি আরও স্পষ্ট করে বলেন, এখন থেকে কোনো নির্দিষ্ট তারিখ ধার্য না করে বরং যে কারও বয়স ১৬ বছর পূর্ণ হলেই তিনি এনআইডির জন্য ইসিতে নিবন্ধনের আবেদন করতে পারবেন। ১৮ বছর বয়সে ভোটার হওয়ার যোগ্যতা অর্জনের পর তিনি স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভোটার তালিকাভুক্ত হয়ে যাবেন।
ইসির সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ভোটারের সংখ্যা ১২ কোটি ৭৭ লাখ ১১ হাজার ৭৯৩ জন।
