রাজধানীর মোহাম্মদপুরে এক তরুণকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করার ঘটনা ঘটেছে। আহত তরুণের বন্ধুরা জানিয়েছেন, তিনি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ওই এলাকার ‘সমন্বয়ক’ হিসেবে পরিচিত ছিলেন।
রোববার রাত ১০টার দিকে মোহাম্মদপুরের ময়ুর ভিলা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। আহত মো. ইব্রাহীমকে প্রথমে সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তার অবস্থার উন্নতি না হলে তাকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (পঙ্গু হাসপাতাল) স্থানান্তর করা হয়।
ঘটনার পরপরই আহতের বন্ধু ও স্বজনরা জানান, ইব্রাহীম জুলাই আন্দোলনের একটি হত্যা মামলার সাক্ষী। দীর্ঘদিন ধরেই তাকে বিভিন্নভাবে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। এমনকি জেলের ভেতরে থাকা আসামিরাও তাকে হুমকি দিয়েছিল বলে তারা দাবি করেন।
হামলার সময় ইব্রাহীমের সঙ্গে থাকা বন্ধু ও স্কুলশিক্ষক আরিফ আহমেদ পঙ্গু হাসপাতালে সাংবাদিকদের বলেন, “তারাবিহ নামাজের পর আমরা ময়ুর ভিলার সামনের একটি চায়ের দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ চারজন লোক এসে এলোপাতাড়ি কোপাতে শুরু করে। তাদের প্রত্যেকের মুখে গামছা বাঁধা ছিল। ইব্রাহীমের হাতে ও মাথায় গুরুতর আঘাত লেগেছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “ইব্রাহীম জুলাই হত্যা মামলার সাক্ষী। অনেক দিন ধরেই তাকে হুমকি দেওয়া হচ্ছিল। সে কারণে সে খুব বেশি বাসা থেকে বের হত না। আমরা মনে করি, জুলাই আন্দোলনের সৃষ্ট শত্রুতার কারণেই তাকে কুপানো হয়েছে।”
তবে এ ঘটনার ব্যাখ্যায় পুলিশ ভিন্ন তথ্য দিয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশের মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী কমিশনার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ময়ুর ভিলা এলাকায় একটি পরিত্যক্ত আওয়ামী লীগ অফিস বা তার সামনের জায়গায় দোকান বসানো নিয়ে দ্বন্দ্ব চলছিল। সেই সূত্র ধরেই প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, এই দ্বন্দ্বের জেরেই হামলার ঘটনা ঘটেছে। তবে কারা হামলা চালিয়েছে তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তদন্ত চলছে।”
ঘটনার পর এলাকায় কিছুটা উত্তেজনা বিরাজ করলেও বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। আহত ইব্রাহীম পঙ্গু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
