সারাদেশে হামের বিস্তার এবং টিকা সংকটের পেছনে সম্ভাব্য অনিয়ম ও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) একটি আবেদন জমা দেওয়া হয়েছে। আবেদনে সাবেক প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস এবং সাবেক স্বাস্থ্য উপদেষ্টা ড. নূরজাহান বেগমসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
সোমবার (১৩ এপ্রিল) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ ও সানাউল্লাহ নূরে সাগর দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন দাখিল করেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন আইনজীবী বিপ্লব কুমার দাশ।
আবেদনে উল্লেখ করা হয়, সম্প্রতি দেশে হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যুর ঘটনা গভীর উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। একজন সচেতন নাগরিক এবং আইনজীবী হিসেবে এ পরিস্থিতি তাদের ব্যথিত ও শঙ্কিত করেছে বলেও উল্লেখ করা হয়। বিভিন্ন গণমাধ্যমে টিকা সংকট এবং এর ফলে রোগের বিস্তার ও মৃত্যুর খবর প্রকাশিত হওয়ায় বিষয়টি আরও গুরুত্ব পেয়েছে।
আবেদনকারীরা দাবি করেন, হামের টিকা সরবরাহে ঘাটতি এবং প্রয়োজনীয় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা না থাকায় পরিস্থিতি ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমে অনেকেই এই পরিস্থিতির জন্য সংশ্লিষ্ট সময়ের নীতিনির্ধারকদের দায়ী করছেন বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
এতে আরও বলা হয়, বর্তমান সরকারও টিকা ও সিরিঞ্জ সংকটের বিষয়টি পূর্ববর্তী সময়ের ব্যবস্থাপনার দুর্বলতার ফল বলে মন্তব্য করেছে। অভিযোগ করা হয়, অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে টিকা ক্রয় প্রক্রিয়ায় পূর্বপ্রস্তুতি ছাড়া পরিবর্তন আনা হয়েছিল, যার ফলে সময়মতো প্রয়োজনীয় টিকা সংগ্রহ ও সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।
আবেদনে বলা হয়, স্বাস্থ্য খাতে বিপুল পরিমাণ বরাদ্দ থাকা সত্ত্বেও সেই অর্থ যথাযথভাবে ব্যবহৃত হয়নি, যা সম্ভাব্য অনিয়ম ও দুর্নীতির ইঙ্গিত দেয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে টিকা ও সিরিঞ্জ ক্রয়ে অনিয়মের খবর প্রকাশিত হয়েছে বলেও এতে উল্লেখ করা হয়।
আবেদনকারীরা আরও বলেন, হামের মতো সংক্রামক রোগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিস্থিতি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে উঠেছে। ইতোমধ্যে শতাধিক শিশুর মৃত্যু এবং অসংখ্য শিশু চিকিৎসাধীন থাকার বিষয়টি জরুরি পদক্ষেপের দাবি রাখে।
এই প্রেক্ষাপটে, টিকা ক্রয় ও বিতরণ প্রক্রিয়ায় কোনো অনিয়ম বা দুর্নীতি হয়েছে কি না তা খতিয়ে দেখতে দুদকের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধও করা হয়েছে।
এছাড়া কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আবেদনের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর মুখ্য সচিব, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছেও পাঠানো হয়েছে। আবেদনের সঙ্গে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন সংযুক্ত করা হয়েছে।
