তৃণমূলের নারী উদ্যোক্তাই অর্থনীতির ভিত্তি শক্ত করবে: মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী

দেশের অর্থনীতিকে স্বনির্ভর ও টেকসই ভিত্তির ওপর দাঁড় করাতে তৃণমূল পর্যায়ের ক্ষুদ্র উদ্যোগের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন সমাজকল্যাণ ও মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, বৈশ্বিক অনিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের এই সময়ে স্থানীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা খাতকে এগিয়ে নেওয়াই হতে পারে বাংলাদেশের স্থায়ী উন্নয়নের প্রধান পথ।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতি-তে আয়োজিত ‘চয়নিকা নারী উদ্যোক্তা উৎসব ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। চৈত্র সংক্রান্তি ও পহেলা বৈশাখ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সাধারণ সম্পাদক তামান্না রহমান। উদ্বোধন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন ফ্যাশন ব্যক্তিত্ব ও ইউনেস্কো আর্টিস্ট ফর পিস বিবি রাসেল।

মন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতিতে নারী উদ্যোক্তারা এখন শক্তিশালী চালিকাশক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। কুটির শিল্প, কৃষিভিত্তিক উদ্যোগ, ফ্যাশন, হস্তশিল্প ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ বিভিন্ন খাতে তাদের অংশগ্রহণ বাড়ছে। এর মাধ্যমে তারা নিজেদের পরিবারের আর্থিক উন্নয়নের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে উৎপাদন বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং নতুন বাজার গড়ে তোলার মাধ্যমে জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন।

তিনি আরও বলেন, তৃণমূল পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ এখনও সীমিত। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীকে কীভাবে উৎপাদনমুখী কাজে যুক্ত করা যায় এবং তাদের উৎপাদিত পণ্যের বাজারজাতকরণ সহজ করা যায়, সে বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। এ ক্ষেত্রে নারী উদ্যোক্তারা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারেন বলে তিনি মত দেন।

নারী উদ্যোক্তাদের উদ্দেশ্যে মন্ত্রী আহ্বান জানান, তাদের কার্যক্রম যেন শুধু শহরকেন্দ্রিক না থেকে গ্রামের নারীদেরও অন্তর্ভুক্ত করে। এতে গ্রামীণ নারীদের কর্মসংস্থান বাড়বে এবং তারা ঘরে বসেই উৎপাদিত পণ্য বাজারে পৌঁছাতে সক্ষম হবে। তিনি বলেন, দেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা অপরিহার্য। পাশাপাশি আধুনিকতার সঙ্গে তাল মিলিয়ে চললেও দেশের নিজস্ব ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি ধরে রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। প্রযুক্তির অগ্রগতিতে কর্মসংস্থান সংকুচিত না হয়, সে বিষয়েও সতর্ক থাকার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ক্ষুদ্র কুটির ও তাঁত শিল্প সংরক্ষণে উদ্যোক্তাদের সচেতন থাকার নির্দেশনা দেন।

অনুষ্ঠানে বিবি রাসেল তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যই তার কাজের প্রধান অনুপ্রেরণা। তিনি নারী উদ্যোক্তাদের দেশীয় ঐতিহ্যকে ধারণ করে কাজ করার আহ্বান জানান এবং বিদেশি সংস্কৃতির অন্ধ অনুকরণ না করে নিজস্বতাকে সমৃদ্ধ করার পরামর্শ দেন। দেশের তাঁত শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে সবাইকে একযোগে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঢাকা লেডিস ক্লাবের সভাপতি আনিসা হক, বেঙ্গল ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক লুভা নাহিদ চৌধুরী এবং বাংলাদেশের পতাকাবাহী বিশ্বভ্রমণকারী নাজমুন নাহার। স্বাগত বক্তব্য দেন চয়নিকার কর্ণধার এস বি বিপ্লব।

তিন দিনব্যাপী এ আয়োজনের প্রথম দিনে জাতীয় পতাকা উত্তোলন, শান্তির প্রতীক কবুতর অবমুক্তকরণ, উদ্বোধনী সংগীত ও নৃত্য পরিবেশনার মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে প্রধান অতিথি উৎসবের স্বাক্ষর বোর্ড উন্মোচন করেন এবং অংশগ্রহণকারী নারী উদ্যোক্তাদের মধ্যে তাদের সৃজনশীলতা ও অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সনদপত্র বিতরণ করেন। মেলায় দেশীয় পণ্যের বিভিন্ন স্টল নিয়ে নারী উদ্যোক্তারা অংশগ্রহণ করছেন, যা তিন দিন ধরে চলবে।