তাজুল ইসলামকে সরিয়ে নতুন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদক: আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) চিফ প্রসিকিউটর পদ থেকে মোহাম্মদ তাজুল ইসলামকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মো. আমিনুল ইসলাম।

আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এ সংক্রান্ত নিয়োগ ও প্রত্যাহারের আদেশ জারি করে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আমিনুল ইসলামকে চিফ প্রসিকিউটর পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এই পদে তিনি অ্যাটর্নি জেনারেলের সমান পদমর্যাদা, বেতন-ভাতা ও অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা পাবেন।

একই প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৪ সালের ৫ সেপ্টেম্বর জারি করা মোহাম্মদ তাজুল ইসলামের নিয়োগ আদেশ বাতিল করা হয়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরে জুলাই আন্দোলনে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে গুম-খুনের অভিযোগের বিচার কার্যক্রম পরিচালনার জন্য তাকে চিফ প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। তার নেতৃত্বে প্রসিকিউশন ২৪টি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ জমা দেয়। এর মধ্যে তিনটি মামলার রায় ঘোষণা হয়েছে এবং আবু সাঈদ হত্যা মামলাসহ দুটি মামলা বর্তমানে রায়ের অপেক্ষায় রয়েছে।

নতুন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলামের বাড়ি হবিগঞ্জ জেলায়। তিনি ১৯৯৩ সালের ২৭ মে হাইকোর্ট বিভাগে এবং ২০২১ সালের ৩০ ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। দীর্ঘদিন তিনি সুপ্রিম কোর্টে আইন পেশায় যুক্ত আছেন। এর আগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার দুর্নীতি মামলায় আইনজীবী দলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

অন্যদিকে, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াতে ইসলামীর নেতাদের পক্ষে আইনজীবী হিসেবে আইনি লড়াইয়ে যুক্ত ছিলেন। পাশাপাশি তিনি আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।

গত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর অন্তর্বর্তী সরকার ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠন করে। এর অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের ৮ সেপ্টেম্বর তাজুল ইসলামকে প্রধান কৌঁসুলি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। একই সময়ে সুপ্রিম কোর্টের আরও চার আইনজীবী—মো. মিজানুল ইসলাম, গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামিম, বি এম সুলতান মাহমুদ ও আব্দুল্লাহ আল নোমান—প্রসিকিউটর হিসেবে নিয়োগ পান।

উল্লেখ্য, একাত্তরে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার করতে বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়। বর্তমানে পুনর্গঠিত ট্রাইব্যুনালে সাবেক সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যের বিচার কার্যক্রম চলছে। ইতোমধ্যে এক মামলায় ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালকে ফাঁসির দণ্ড দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ঢাকার চানখারপুলে ছয়জনকে হত্যা এবং আশুলিয়ায় ছয় লাশ পোড়ানোর মামলাও বিচারাধীন রয়েছে।