জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ ম্যার্ৎস প্রথমবারের মতো চীন সফরে গিয়ে দুই দেশের মধ্যে অংশীদারিত্ব ও সংলাপ আরও জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতিতে অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে চীনের সঙ্গে বাণিজ্য ঘাটতি কমানো এবং উন্নত ব্যবসায়িক সম্পর্ক গড়ে তোলাই এই সফরের মূল লক্ষ্য বলে জানা গেছে।
তিন দিনের এই সফরে ম্যার্ৎসের সঙ্গে জার্মানির শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতাদের একটি বড় প্রতিনিধি দল রয়েছে। বেইজিংয়ে তাকে স্বাগত জানান চীনের প্রধানমন্ত্রী লি কিয়াং। পরে তিনি চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং–এর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে অংশ নেন।
বৈঠকে শি জিনপিং বলেন, চীন ও জার্মানি বিশ্বের দুই বৃহৎ অর্থনীতির দেশ এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। তাই পারস্পরিক আস্থা বৃদ্ধি, বহুপাক্ষিকতা ও মুক্ত বাণিজ্য রক্ষা এবং আরও ন্যায়সঙ্গত বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তুলতে দুই দেশের একসঙ্গে কাজ করা উচিত।
চ্যান্সেলর ম্যার্ৎস জানান, জার্মানি চীনের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ ও অবাধ সহযোগিতা চায়। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক যত গভীর হবে, সুযোগের পাশাপাশি ঝুঁকিও বাড়বে। তাই উভয় পক্ষকেই বিচক্ষণতার সঙ্গে এগোতে হবে।
এই সফরের একটি বড় অর্জন হলো—চীন ইউরোপীয় বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান এয়ারবাস থেকে আরও ১২০টি বিমান কেনার অর্ডার দেবে। ম্যার্ৎস জানান, চীনা নেতৃত্ব অতিরিক্ত এই ১২০টি বিমান মোট অর্ডারের সঙ্গে যুক্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
উল্লেখ্য, জার্মান চ্যান্সেলরের আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটন সফরের পরিকল্পনা রয়েছে। এর আগে চীন সফর করেছেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাক্রোঁ এবং ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্কের টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে ইউরোপীয় দেশগুলো চীনের সঙ্গে নিজেদের সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করার দিকে মনোযোগ দিচ্ছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
বৈঠকে শি জিনপিং চীন–জার্মানির কৌশলগত অংশীদারিত্বকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, দুই দেশের উচিত দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থ বিবেচনায় কৌশলগত সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণ করা।
সফরটি চীন ও জার্মানির মধ্যকার অর্থনৈতিক ও কূটনৈতিক সম্পর্ককে আরও সুসংহত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
