কক্সবাজার পৌরসভার কলাতলী এলাকায় একটি নবনির্মিত গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। এ
তে অন্তত ১৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ‘এন আলম’ নামের ওই ফিলিং স্টেশনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, এর আগে সন্ধ্যা ৭টার দিকে পাম্পটিতে গ্যাস লিক করা শুরু হয়। কক্সবাজার সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছমি উদ্দিন জানান, প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে বাতাসে মিশে এই গ্যাস আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। এক কিলোমিটার এলাকা গ্যাসে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ায় জনমনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, “গ্যাসের তীব্র গন্ধে আমাদের শ্বাস নিতেই কষ্ট হচ্ছিল। আমরা ফায়ার সার্ভিসে খবর দিই। এরপর রাত ১০টার দিকে হঠাৎ বিকট শব্দে বিস্ফোরণ হয়।” তিনি আরও জানান, বিস্ফোরণের পর পাম্পের একাধিক স্থানে আগুন ধরে যায় এবং সামনের কয়েকটি স্থাপনায় তা ছড়িয়ে পড়ে। ওই এলাকায় আদর্শ গ্রাম, চন্দ্রিমা হাউজিং ও জেলখানা এলাকায় প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। বিস্ফোরণের পরপরই পুরো এলাকায় চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার পরপরই প্রশাসন তৎপর হয়। অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শাহিদুল আলম জানান, গ্যাস ছড়িয়ে পড়া এলাকা থেকে বাসিন্দাদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং আশপাশে আগুন না জ্বালাতে মাইকিং করা হচ্ছে। কক্সবাজার শহরের অন্যতম প্রবেশমুখ কলাতলী সড়কে যান চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, যার ফলে ঢাকা ও চট্টগ্রামগামী যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের কক্সবাজার কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন রাত ১২টার দিকে জানান, ছড়িয়ে পড়া গ্যাসের কারণে বিস্ঘোরণের ঝুঁকি তৈরি হয়েছিল। মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাস লিকেজ বন্ধের চেষ্টা চলছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট কাজ করছে। তবে দেড় ঘণ্টার চেষ্টাতেও আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি বলে তিনি জানান।
দগ্ধদের উদ্ধার করে দ্রুত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার সাবুক্তগীন মাহমুদ শহেল জানান, মোট ১৫ জন দগ্ধকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ছয়জনকে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। গুরুতর আহত একজনকে ঢাকায় এবং আটজনকে চট্টগ্রামে পাঠানো হয়েছে।
ওসি ছমি উদ্দিন বলেন, “উৎসুক জনতাকে নিরাপদ দূরত্বে রাখা হচ্ছে এবং অন্যান্য সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে ক্ষয়ক্ষতি কমানোর চেষ্টা চলছে।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ সময় ধরে গ্যাস লিকেজ হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি, যা এই বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ বলে তারা মনে করছেন। পুরো এলাকায় এখনও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
