জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা: গাড়ির ধরণ অনুযায়ী তেল বিক্রির সীমা বেঁধে দিল বিপিসি

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা ও জ্বালানি তেলের মজুদ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে ভোক্তাপর্যায়ে তেল বিক্রিতে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। শুক্রবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি জানায়, গাড়ির ধরণ ও ট্রিপপ্রতি সর্বোচ্চ কত লিটার জ্বালানি তেল দেওয়া যাবে, তা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়েছে।

সম্প্রতি বৈশ্বিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তন, বিশেষ করে ইরান-ইসরায়েল উত্তেজনা ও হরমুজ প্রণালি নিয়ে শঙ্কার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়। এর প্রভাবে দেশের অভ্যন্তরেও দেখা দেয় অস্বাভাবিক পরিস্থিতি। বিপিসির পর্যবেক্ষণে দেখা গেছে, সামাজিক ও প্রচলিত গণমাধ্যমে মজুদ নিয়ে নেতিবাচক খবর ছড়িয়ে পড়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বাড়ে। এর ফলে একদিকে যেমন ডিলাররা ডিপো থেকে অতিরিক্ত তেল তোলার চেষ্টা করছেন, তেমনি সাধারণ ভোক্তারাও প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল কিনে অনুমোদনহীনভাবে মজুত করতে শুরু করেছেন।

নতুন এ সিদ্ধান্ত কার্যকর করতে ইতোমধ্যে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কঠোর নির্দেশনা পাঠানো হয়েছে। এর আওতায় শুধু সীমা নির্ধারণই নয়, তেল বিক্রির সময় ক্রয় রশিদ দেওয়া এবং পরবর্তীতে তেল নিতে এসে পুরোনো রশিদ জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা তৈরি করা হয়েছে। এতে একই গ্রাহক একাধিকবার তোলার সুযোগ কমবে বলে মনে করছে বিপিসি।

গাড়ি ভেদে সর্বোচ্চ জ্বালানি সীমা:

· মোটরসাইকেল: সর্বোচ্চ ২ লিটার অকটেন/পেট্রোল
· প্রাইভেট কার: ১০ লিটার
· এসইউভি, জিপ, মাইক্রোবাস: ২০-২৫ লিটার
· পিকআপ ও লোকাল বাস: ৭০-৮০ লিটার ডিজেল
· দূরপাল্লার বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান: ২০০-২২০ লিটার ডিজেল

বিপিসি বলছে, বর্তমানে দেশে জ্বালানি তেলের চাহিদা মেটাতে পর্যাপ্ত মজুদ ও আমদানির কার্যক্রম রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলেও নির্ধারিত সময়ে চালান আসা অব্যাহত আছে। রেলওয়ে ও ট্যাংকারের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন ডিপোতে তেল সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা হয়েছে। আশা করা যাচ্ছে, অচিরেই বাফার স্টক বাড়বে।

এদিকে সংকটের এই সময়ে মূল্যবৃদ্ধির গুঞ্জনও উড়িয়ে দিয়েছে সংস্থাটি। বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়, সরকার নির্ধারিত মূল্যের বাইরে কোনো পাম্প বা ডিলার তেল বিক্রি করতে পারবেন না। বর্তমান মূল্যই বহাল থাকবে—ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা লিটারপ্রতি।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত কয়েকদিন ধরে পেট্রোল পাম্পগুলোতে যে উপচে পড়া ভিড় ও ক্রেতাদের মধ্যে অস্বাভাবিক আচরণ দেখা গেছে, তাতে সরবরাম স্বাভাবিক রাখতে এই সীমা জরুরি হয়ে পড়েছিল। প্রশাসনের দৃষ্টি এখন সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক রাখা ও কালোবাজারি রোধে নজরদারি বাড়ানোর দিকে।