ফেসবুকে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট: জাবি শিক্ষার্থীকে হুমকির অভিযোগ জাকসু সদস্যের বিরুদ্ধে

ফেসবুক পোস্টে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়াকে কেন্দ্র করে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জাকসু)-এর এক কার্যকরী সদস্যের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী সুকান্ত বর্মণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট অব ইনফরমেশন টেকনোলজি (আইআইটি) বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত মোহাম্মদ আলী চিশতি জাকসুর কার্যকরী সদস্য।

সুকান্ত বর্মণের অভিযোগ, দুটি ফেসবুক পোস্টে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়ার কারণে মোহাম্মদ আলী চিশতি তার ইনবক্সে এসে হুমকি দেন। তিনি বলেন, একজন ছাত্র প্রতিনিধির পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রতিক্রিয়া দেখে হুমকি দেওয়া জাকসুর গঠনতন্ত্রের পরিপন্থী।

হুমকির অভিযোগ তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কিছু স্ক্রিনশটও প্রকাশ করেছেন সুকান্ত। তিনি জানান, ফেসবুকে দেওয়া তার দুটি ‘হা হা’ রিয়্যাক্টের পেছনে নির্দিষ্ট কারণ ছিল।

তার ভাষ্য, একটি পোস্ট ছিল ক্রিকেটার সাকিব আল হাসানকে দেশে আসতে দেওয়া হবে না—এমন দাবিকে কেন্দ্র করে। ওই দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় তিনি সেখানে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দিয়েছিলেন। আরেকটি পোস্ট ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে করা সমালোচনামূলক মন্তব্যের বিরুদ্ধে। ইতিহাসের বিভিন্ন ঘটনার প্রেক্ষাপটে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক সংগ্রাম অস্বীকার করা যায় না—এমন মত প্রকাশ করেই তিনি ওই পোস্টে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দেন।

সুকান্ত বলেন, ফেসবুক একটি উন্মুক্ত প্ল্যাটফর্ম এবং সেখানে কে কী প্রতিক্রিয়া দেবেন, তা নির্ধারণ করে দেওয়ার অধিকার কারও নেই। তিনি মনে করেন, এ ধরনের আচরণ বাকস্বাধীনতার পরিপন্থী।

তিনি আরও জানান, এ ঘটনায় ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে ই-মেইলে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এবং একই অভিযোগ জাকসু কর্তৃপক্ষের কাছেও জমা দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

এ বিষয়ে জাকসুর সহ-সভাপতি (ভিপি) আব্দুর রশিদ জিতু বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কারও ব্যক্তিগত পোস্টে বিভিন্ন ধরনের প্রতিক্রিয়া দেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং একজন ব্যবহারকারী তার অভিব্যক্তি অনুযায়ী প্রতিক্রিয়া দিতে পারেন। কারও পোস্টে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়ার কারণে তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করা বা জবাবদিহির মুখে ফেলা অনধিকার চর্চা বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও বলেন, কেউ রাজনৈতিকভাবে কোনো দলে যুক্ত না থাকলেও ব্যক্তিগতভাবে কোনো ব্যক্তি বা বিষয় ভালো লাগতে পারে এবং তা প্রকাশ করার অধিকার তার রয়েছে। ব্যক্তিগত মতামত বা টাইমলাইনের বিষয়ে জাকসুর কোনো পদক্ষেপ নেওয়ার এখতিয়ার নেই বলেও জানান তিনি। তার মতে, জাকসুর পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ বা পদক্ষেপ নিতে হলে সেটি অবশ্যই সংগঠনের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত হতে হবে।

অভিযোগের বিষয়ে মোহাম্মদ আলী চিশতি বলেন, তিনি যখনই ফ্যাসিবাদবিরোধী বা আওয়ামী লীগবিরোধী কোনো পোস্ট দেন, তখন সুকান্ত বর্মণ সেখানে নিয়মিত ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দিতেন। বিষয়টি খেয়াল করে তিনি সুকান্তের টাইমলাইন ঘেঁটে দেখেন, সেখানে আওয়ামী লীগকে সমর্থন বা ডিফেন্ড করার মতো কিছু পোস্ট রয়েছে।

তিনি জানান, পরে ইনবক্সে সুকান্তকে নমস্কার জানিয়ে জানতে চান তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না। সুকান্ত নিজেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হিসেবে পরিচয় দিলে তিনি তাকে জানান, ক্যাম্পাসে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষণার প্রেক্ষাপটে তিনি নিয়মিত এ ধরনের পোস্ট করছেন।

চিশতির দাবি, এসব পোস্টে ‘হা হা’ রিয়্যাক্ট দেওয়া তাদের সমর্থন করার মতো মনে হওয়ায় তিনি বিষয়টি নিয়ে আপত্তি জানান এবং ব্যক্তিগতভাবে তার বিরুদ্ধে বিভাগে লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা বলেন।