নিজস্ব প্রতিবেদক
দেশের নিম্ন ও মধ্য আয়ের মানুষের জন্য সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি জোরদার করতে আগামী পাঁচ বছরে ৪ কোটি পরিবারের হাতে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। রাজধানীতে একটি পাইলট প্রকল্প উদ্বোধনের সময় তিনি এই লক্ষ্য ঘোষণা করেন।
মঙ্গলবার রাজধানীর বনানীর টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে কড়াইল বস্তি সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কর্মসূচির উদ্বোধন করা হয়। প্রথম ধাপে পরীক্ষামূলকভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৪ জনকে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। অনুষ্ঠানে কড়াইল, ভাষানটেক ও ১০ তলা বস্তি এলাকার প্রায় ১৫ হাজার নারীপ্রধান পরিবারের হাতে প্রতীকীভাবে কার্ড তুলে দেওয়া হয়।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনী অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার হিসেবে প্রতিশ্রুতি পূরণে তারা দায়বদ্ধ। বৈশ্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে কিছু উদ্যোগ বাস্তবায়নে সময় লাগতে পারে, তবে ধাপে ধাপে সব প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হবে।
তার বক্তব্যে তিনি বিশেষভাবে নারীদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরেন। তার মতে, দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী হওয়ায় তাদের বাদ দিয়ে উন্নয়ন সম্ভব নয়। এ কারণে পরিবারভিত্তিক এই সহায়তা কর্মসূচিতে নারীপ্রধান পরিবারকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে আরও জানানো হয়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির পাশাপাশি কৃষি খাতেও সরকার নতুন পদক্ষেপ নিচ্ছে। ইতোমধ্যে কিছু কৃষি ঋণ মওকুফ করা হয়েছে এবং আগামী মাস থেকে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে।
সমাজকল্যাণমন্ত্রী এজেডএম জাহিদ হোসেন বলেন, ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে দলীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে কোনো বৈষম্য করা হবে না। যোগ্যতার ভিত্তিতেই পর্যায়ক্রমে দেশের মানুষ এই সুবিধা পাবে বলে তিনি জানান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারভিত্তিক কার্ড ব্যবস্থা চালু হলে সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা বাড়তে পারে এবং একই পরিবারের একাধিক ব্যক্তি ভিন্ন ভিন্ন ভাতা পাওয়ার প্রবণতা কমবে। তবে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে সঠিক উপকারভোগী নির্বাচন এবং তথ্যভান্ডার হালনাগাদ রাখা।
অন্যদিকে, পাঁচ বছরে ৪ কোটি পরিবারকে এই কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য বেশ উচ্চাভিলাষী বলেও মনে করছেন অনেকে। এর জন্য বড় বাজেট, শক্তিশালী প্রশাসনিক সমন্বয় এবং ডিজিটাল তথ্যব্যবস্থার প্রয়োজন হবে। সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে এটি দেশের সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে বলে মনে করছেন নীতিনির্ধারকরা।
