
ডেস্ক নিউজ
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর কয়েকটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশ হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, হামলায় পাঁচটি রিফুয়েলিং বিমান আঘাত পেলেও সেগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়নি এবং বর্তমানে মেরামতের কাজ চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, ইরানের হামলার জেরে সৌদি আরবের একটি বিমানঘাঁটিতে থাকা মার্কিন বাহিনীর পাঁচটি জ্বালানি সরবরাহকারী বিমান ক্ষতির মুখে পড়ে। তবে এগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়নি, ফলে প্রযুক্তিগত মেরামতের মাধ্যমে আবারও ব্যবহারের উপযোগী করার চেষ্টা চলছে।
সংবাদমাধ্যমটির দাবি অনুযায়ী, বিষয়টি সম্পর্কে কয়েকজন মার্কিন কর্মকর্তা তথ্য দিলেও আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।
হামলাটি ঠিক কীভাবে হয়েছে—ক্ষেপণাস্ত্র না ড্রোনের মাধ্যমে—সে বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। একইভাবে হামলার নির্দিষ্ট সময় বা সৌদি আরবের কোন ঘাঁটিতে এটি ঘটেছে, তাও পরিষ্কার করা হয়নি।
সাম্প্রতিক সময়ের সামরিক সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যে উত্তেজনা দ্রুত বাড়ছে। ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকেই তেহরান বিভিন্ন জায়গায় পাল্টা আঘাত হানার চেষ্টা করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরানের পাল্টা হামলার বড় অংশ এখন পর্যন্ত মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন স্বার্থ ও সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্য করে হয়েছে। বিশেষ করে বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের আকাশপথ দিয়ে বেশ কিছু হামলার খবর পাওয়া গেছে।
তুলনামূলকভাবে সৌদি আরবে কম হামলার ঘটনা সামনে এলেও নতুন এই প্রতিবেদনের পর পরিস্থিতি আরও সংবেদনশীল হয়ে উঠতে পারে।
শুক্রবারই মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ইরাকে তাদের একটি কেসি-১৩৫ স্ট্র্যাটোট্যাংকার বিমান বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে থাকা ছয়জন ক্রু সদস্য নিহত হন।
এর আগে কুয়েতেও তিনটি মার্কিন যুদ্ধবিমান দুর্ঘটনার শিকার হয়। পরে কুয়েত ও যুক্তরাষ্ট্র দাবি করে, নিজেদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ভুলের কারণেই ওই বিমানগুলো ভূপাতিত হয়েছিল।
রিফুয়েলিং বিমানগুলো আধুনিক যুদ্ধ ব্যবস্থায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এসব বিমান আকাশে থাকা যুদ্ধবিমানকে জ্বালানি সরবরাহ করে দীর্ঘ সময় অপারেশন চালানোর সুযোগ দেয়। ফলে এগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া মানে সামরিক অভিযানের কার্যকারিতায় সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি সত্যিই সৌদি ঘাঁটিতে থাকা মার্কিন জ্বালানি বিমানগুলো হামলার শিকার হয়ে থাকে, তবে তা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক উপস্থিতির নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করতে পারে।
এই ঘটনার সত্যতা ও বিস্তারিত তথ্য নিশ্চিত হলে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সামরিক উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে। একই সঙ্গে মার্কিন ঘাঁটিগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
