“প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্যোগে ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা চালু, মানবিক ও স্বনির্ভর সমাজ গড়ার আহ্বান”

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশের ইমাম, খতিব, মুয়াজ্জিন এবং অন্যান্য ধর্মীয় নেতাদের জন্য ‘সম্মানী ভাতা’ কর্মসূচি চালু করেছেন। শনিবার ওসমানী মিলনায়তনে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, সমাজ ও রাষ্ট্রকে শক্তিশালী করতে নাগরিকদের অর্থনৈতিকভাবে সুষম অবস্থায় থাকা প্রয়োজন।

প্রধানমন্ত্রী জানান, একটি মানবিক ও স্বনির্ভর সমাজ গঠনের লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতাদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করার আহ্বান জানান। আগামী দশ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হওয়ার লক্ষ্য জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, এ কর্মসূচি সেই পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হবে।

ধর্মগুরুদের সম্মানী ভাতা কর্মসূচির প্রথম ধাপে পাইলটিং স্কিমের আওতায় দেশের:

  • ৪,৯০৮টি মসজিদ
  • ৯৯০টি মন্দির
  • ১৪৪টি বৌদ্ধ বিহার

মোট ১৬,৯৯২ জন ধর্মগুরু মাসিক সম্মানী পাবেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, ভবিষ্যতে দেশের সকল ‘যোগ্য’ ধর্মগুরু এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।

প্রধানমন্ত্রী ধর্মীয় নেতাদের উদ্দেশে বলেন, “শুধু অর্থিক সহায়তা দিয়ে মানবিক সমাজ তৈরি সম্ভব নয়। ধৈর্য, সততা, উদারতা ও সহনশীলতা অর্জনে ধর্মীয় শিক্ষার বিকল্প নেই।” তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ধর্মের নৈতিক শিক্ষাই সমাজে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে এবং ধর্মগুরুদের শিক্ষা ও যোগ্যতা দেশের উন্নয়নে কাজে লাগানো যেতে পারে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এই কর্মসূচি শুধু ধর্মীয় নেতাদের অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতা নিশ্চিত করবে না; এটি সামাজিক স্থিতিশীলতা, ধর্মনিরপেক্ষতা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশেও সহায়ক হবে। এছাড়া স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা কমিটির মিটিংয়ে ধর্মীয় প্রতিনিধিদের অন্তর্ভুক্তি দেশের প্রশাসনিক কাজকর্মে ধর্মনিরপেক্ষ পরামর্শ প্রবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ‘ইমাম প্রশিক্ষণ একাডেমি’ এবং ১৯৯৩ সালে খালেদা জিয়া সরকারের ‘মসজিদভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা’ কার্যক্রমের উল্লেখ করেন। তিনি জানান, বর্তমান সরকার সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে ধর্মগুরুদের সক্ষমতাকে রাষ্ট্রীয় উন্নয়নে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও যোগ করেন, সব ধর্মের মানুষকে একত্রিত করে কাজ করতে হবে। মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান কিংবা বিশ্বাসী-অবিশ্বাসী—সবাই মিলিতভাবে দেশের কল্যাণে ভূমিকা রাখবে।

এই উদ্যোগের মাধ্যমে সরকারের লক্ষ্য কেবল ধর্মগুরুদের অর্থিক সহায়তা নয়; এটি সামাজিক সংহতি ও নৈতিক মূল্যবোধ বৃদ্ধি এবং স্থানীয় নেতৃত্বের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ক দৃঢ় করার একটি পদক্ষেপ। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এমন কর্মসূচি সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে দীর্ঘমেয়াদি ফল বয়ে আনতে পারে।

এছাড়া, ধর্মীয় নেতাদের অর্থিক ও নৈতিকভাবে শক্তিশালী করে সমাজে ধৈর্য, সহনশীলতা এবং মানবিক মূল্যবোধের সম্প্রসারণ সম্ভব হবে। এটি সরকারের মানবিক ও সমৃদ্ধ সমাজ গঠনের লক্ষ্যকে বাস্তবে পরিণত করার দিকেও ইঙ্গিত দেয়।