রাষ্ট্রমালিকানাধীন নবগঠিত সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক শুরুতেই নেতৃত্বের সংকটে পড়েছে। ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন সাবেক সচিব মোহাম্মদ আইয়ুব মিয়া।
সোমবার (১৬ মার্চ) তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগে আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ব্যক্তিগত কারণ উল্লেখ করে তিনি এই পদ থেকে অব্যাহতি নেওয়ার আবেদন করেছেন।
সরকার গত বছরের ৭ ডিসেম্বর নতুন এই ব্যাংকের প্রথম চেয়ারম্যান হিসেবে আইয়ুব মিয়াকে নিয়োগ দিয়েছিল। তবে প্রতিষ্ঠানের কার্যক্রম পুরোপুরি গতি পাওয়ার আগেই তার পদত্যাগ নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে ব্যাংকটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) নিয়োগ নিয়েও জটিলতা দেখা দিয়েছে। এর আগে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংক-এর অতিরিক্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাবিল মুস্তাফিজুর রহমানকে এমডি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিন্তু ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে তিনি দায়িত্ব গ্রহণ করেননি। ফলে শূন্য থাকা এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নতুন করে নিয়োগের জন্য আবারও বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠনের পেছনে ছিল দেশের কয়েকটি দুর্বল শরিয়াহভিত্তিক ব্যাংকের আর্থিক সংকট মোকাবিলার উদ্যোগ। তারল্য সংকটে থাকা পাঁচটি ব্যাংক— এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক এবং ইউনিয়ন ব্যাংক—কে একীভূত করে এই নতুন ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করা হয়।
অর্থনীতিবিদদের মতে, দুর্বল ব্যাংকগুলোর সম্পদ ও দায় একত্রিত করে একটি শক্তিশালী কাঠামো তৈরির লক্ষ্যেই এই সমন্বিত ব্যাংক গঠন করা হয়েছে। তবে শুরুতেই চেয়ারম্যানের পদত্যাগ এবং এমডি পদে অনিশ্চয়তা প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রমে ধীরগতি তৈরি করতে পারে। তাই দ্রুত নতুন নেতৃত্ব নিয়োগ এবং সুস্পষ্ট পুনর্গঠন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা এখন সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
