জিয়াউর রহমানের অবদান নিয়ে নতুন করে গুরুত্বারোপ, ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মহান স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই। তিনি দাবি করেন, অতীতে নানা সময়ে তাঁর অবদানকে ছোট করে দেখানোর চেষ্টা হলেও সেটিই প্রমাণ করে—জিয়াউর রহমান ছিলেন এই ইতিহাসের একটি অনিবার্য অংশ।

রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে অনুষ্ঠিত এই সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি তরুণ প্রজন্মের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, জিয়াউর রহমান শুরুতে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও স্বাধীনতার স্বপ্ন তিনি গভীরভাবে লালন করতেন। একজন সামরিক কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি দেশের স্বাধীনতার চিন্তা তাঁর মনে দৃঢ়ভাবে গড়ে উঠেছিল।

“একটি জাতির জন্ম” প্রবন্ধের প্রসঙ্গ

প্রধানমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে জিয়াউর রহমানের লেখা ‘একটি জাতির জন্ম’ শীর্ষক প্রবন্ধের উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, এই লেখাটি স্বাধীনতা যুদ্ধ নিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল, যেখানে স্বাধীনতার পটভূমি ও প্রস্তুতির বিষয়টি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালে প্রকাশিত এই লেখাটি পরবর্তীতে ১৯৭৪ সালেও পুনঃপ্রকাশিত হয়, কিন্তু সে সময় কোনো মহল থেকে এর সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়নি। এতে বোঝা যায়, ওই সময়ের বাস্তবতার সঙ্গে লেখাটির সামঞ্জস্য ছিল।

২৬ মার্চের ঐতিহাসিক মুহূর্ত নিয়ে প্রশ্ন

তারেক রহমান বিশেষভাবে ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ রাত ২টা ১৫ মিনিটের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, এই সময়টিকে ঘিরে কী ঘটেছিল, তা নিয়ে গবেষণার সুযোগ রয়েছে এবং জিয়ার লেখাটি সেই গবেষণায় গুরুত্বপূর্ণ সূত্র হতে পারে।

অতীত ও ভবিষ্যৎ—দুইয়ের ভারসাম্যের কথা

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতীতকে পুরোপুরি ভুলে গেলে জাতি দিক হারায়, আবার অতীতেই আটকে থাকলেও সামনে এগোনো সম্ভব নয়। তাই ইতিহাস থেকে শিক্ষা নিয়ে ভবিষ্যতের দিকে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

মুক্তিযুদ্ধ: কোনো দলের নয়, সবার

তিনি জোর দিয়ে বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ ছিল সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে একটি জনযুদ্ধ। তাই এর গৌরব কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয়।

একই সঙ্গে তিনি সতর্ক করে দেন, গবেষণা বা আলোচনার নামে এমন কিছু বলা উচিত নয়, যা মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসকে খাটো করে।

ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ ও স্বাধীনতার মূল্য

স্বাধীনতার গুরুত্ব বোঝাতে তিনি ফিলিস্তিনের মানুষের উদাহরণ তুলে ধরেন। তাঁর মতে, যারা এখনও স্বাধীনতা অর্জন করতে পারেনি, তারাই প্রকৃত অর্থে স্বাধীনতার মূল্য উপলব্ধি করতে পারে।

উন্নয়ন ও স্বনির্ভরতার লক্ষ্য

দেশের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সীমিত সম্পদের মধ্যেও সরকার বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, খাল খননসহ নানা উদ্যোগের মাধ্যমে মানুষের জীবনমান উন্নয়নের চেষ্টা চলছে।

তিনি বিশ্বাস প্রকাশ করেন, সবাই একসঙ্গে কাজ করলে স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।

সমাজের সবার জন্য সমান সুযোগের অঙ্গীকার

বক্তব্যের শেষদিকে তিনি বলেন, দেশের উন্নয়ন কেবল একটি গোষ্ঠীর জন্য নয়—সবার জন্য হতে হবে। সবাইকে সঙ্গে নিয়েই একটি সুন্দর ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।