গজারিয়ায় জ্বালানি সংকটের অভিযোগ: পাম্পে দীর্ঘ লাইন, চরম ভোগান্তিতে চালকরা

মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলায় বেশ কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় চালকরা। বিশেষ করে মোটরসাইকেল চালকদের ভোগান্তি এখন চরমে পৌঁছেছে, কারণ অনেক পাম্পে নিয়মিত তেল পাওয়া যাচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুরের দিকে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের আনারপুরা এলাকায় অবস্থিত একটি ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, শত শত মোটরসাইকেল ও অন্যান্য যানবাহন দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত জ্বালানি পাচ্ছেন না। অকটেন তেলের জন্য চালকদের মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ স্পষ্ট।

স্থানীয়দের ভাষ্য, গজারিয়া উপজেলায় আরও কয়েকটি পেট্রোল পাম্প থাকলেও বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেখানে নিয়মিত তেল বিক্রি করা হয় না। ফলে বাধ্য হয়ে চালকদের নির্দিষ্ট কিছু পাম্পের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে, যা চাপ আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।

ভুক্তভোগী মোটরসাইকেল চালক হান্নান খান ও কামরুল ইসলাম জানান, “এলাকায় এতগুলো ফিলিং স্টেশন থাকা সত্ত্বেও কোথাও তেল পাওয়া যায় না। নির্দিষ্ট একটি পাম্পে সামান্য তেল পাওয়া যায় বলে সবাই এখানে ভিড় করছে। কয়েকদিন ধরে তেলের জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে। আজও সকাল থেকে লাইনে আছি, কিন্তু এখনো তেল আসেনি।”

এদিকে, সম্প্রতি মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান রতন গজারিয়ার কয়েকটি পাম্প পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি সতর্ক করে বলেন, কোনোভাবেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলা যাবে না। যদি কেউ তেল মজুদ রেখে বিক্রি বন্ধ বা সীমিত করার চেষ্টা করে, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী জ্বালানি বিক্রি নিশ্চিত করতে হবে এবং কোনো সমস্যা হলে প্রশাসনকে জানাতে হবে।

অন্যদিকে, একটি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক জানান, তারা যে পরিমাণ অকটেন পাচ্ছেন, তা গ্রাহকদের মধ্যে বিতরণ করছেন এবং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিয়মিত অবহিত করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের দাবি, সব পাম্পে নিয়মিত জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে এই সংকট অনেকটাই কমে আসবে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।