ঈদে জনদুর্ভোগ কমাতে সরকারের ১০ উদ্যোগে সুফল পেয়েছে মানুষ: মাহ্দী আমিন

পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে জনদুর্ভোগ কমানো এবং উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকারের নেওয়া ১০টি বিশেষ উদ্যোগের ইতিবাচক সুফল সাধারণ মানুষ পেয়েছে বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রী পদমর্যাদা) ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন। তিনি বলেন, এসব উদ্যোগের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনায় জবাবদিহিতা, সুশাসন এবং জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেছে।

সোমবার (১ জুন) বিকেল ৩টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘করবী’ হলে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

সংবাদ সম্মেলনে মাহ্দী আমিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই জনকল্যাণমূলক বিভিন্ন পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করেছে। এবারের ঈদে সরকারের দায়বদ্ধতা, প্রশাসনিক সমন্বয় এবং নীতিগত পরিবর্তনের সুস্পষ্ট প্রতিফলন জনগণ প্রত্যক্ষ করেছে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহে সম্প্রসারণ করা হয়েছিল জানিয়ে তিনি বলেন, এর ফলে মহাসড়কে যানজট তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে ঈদকে ঘিরে সংঘটিত সড়ক ও রেল দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেন তিনি।

শ্রমিকদের বেতন-বোনাস প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, ঈদের আগেই তৈরি পোশাক খাতসহ সব শিল্প প্রতিষ্ঠানের শ্রমিকদের বকেয়া বেতন ও ভাতা পরিশোধ নিশ্চিত করা হয়েছে। এতে শ্রমজীবী মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরে এসেছে।

কোরবানির পশুর বাজার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অবৈধ ভারতীয় গরুর প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ থাকায় দেশীয় খামারিরা ন্যায্য মূল্য পেয়েছেন। দেশে চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত সংখ্যক কোরবানির পশু মজুত ছিল, ফলে বাজারে কোনো সংকট তৈরি হয়নি।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দ্রুততার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কোরবানির ৮ থেকে ১২ ঘণ্টার মধ্যেই রাজধানীর অধিকাংশ এলাকার বর্জ্য অপসারণ সম্পন্ন করা হয়েছে। ঈদের পরদিন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে বিভিন্ন এলাকায় বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে কয়েকজন আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক প্রশাসনিক ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

গণপরিবহন ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা বজায় ছিল বলে দাবি করে মাহ্দী আমিন বলেন, ট্রেনে নারীদের জন্য পৃথক কোচের ব্যবস্থা করা হয় এবং প্রবীণ ও প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য বিশেষ ভাড়া ছাড় দেওয়া হয়। একই সঙ্গে নৌপথে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম খরচে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। পশুবাহী ট্রাক ও পশুর হাটে চাঁদাবাজি দমনে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কার্যকর ভূমিকা পালন করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

বিদ্যুৎ পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ঈদের ছুটিতে শিল্পকারখানার কার্যক্রম সীমিত থাকায় আবাসিক এলাকায় লোডশেডিং সর্বনিম্ন পর্যায়ে রাখা সম্ভব হয়েছে। ফলে তীব্র গরমের মধ্যেও মানুষ তুলনামূলক স্বস্তিতে ঈদ উদযাপন করতে পেরেছে।

সংবাদ সম্মেলনে আলোচিত মহিষ ‘ডোনাল্ড ট্রাম্প’ প্রসঙ্গেও কথা বলেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা। তিনি বলেন, বিষয়টিকে জননিরাপত্তার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিবেচনা করে মহিষটিকে চিড়িয়াখানায় স্থানান্তর করা হয়, যার ফলে সম্ভাব্য অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব হয়েছে।

কোরবানির পশুর চামড়ার বাজার পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, আগাম মূল্য নির্ধারণ এবং কঠোর নজরদারির ফলে চামড়া অবিক্রীত থাকা কিংবা নষ্ট হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। পাশাপাশি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিশেষ টাস্কফোর্সের মাধ্যমে চাল, ডাল, তেলসহ প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার চেষ্টা করা হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী পালন প্রসঙ্গও উঠে আসে। এ বিষয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা বা প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার ছাড়াই সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে দেশব্যাপী কর্মসূচিগুলো পালিত হয়েছে। এটি গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক সংস্কৃতির একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব-১ জাহিদুল ইসলাম রনি। এ সময় অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বক্তব্য দেন। উপস্থিত ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর স্পিচ রাইটার এস এ এম মাহফুজুর রহমান, উপ-প্রেস সচিব সুজন মাহমুদ, সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক এবং শাহরিয়ার পামিরসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।