দেশজুড়ে তীব্র গরম ও তাপপ্রবাহে জনজীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। গতকাল বুধবার দেশের ৪৮টি জেলার ওপর দিয়ে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে, যা চলতি বছরে এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক জেলায় তাপপ্রবাহের ঘটনা। আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, তাপপ্রবাহের এই পরিস্থিতি আগামীকাল শুক্রবার পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। তবে শনিবার থেকে ধীরে ধীরে তাপমাত্রা কমার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাধারণত মে মাসের শেষ দিনেই দেশে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটে। কিন্তু চলতি বছর এখনো মৌসুমি বায়ুর দেখা মেলেনি। ফলে জুন মাস শুরু হলেও বৃষ্টির পরিমাণ কম থাকায় গরমের তীব্রতা বেড়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার দেশের পাঁচটি বিভাগে তাপপ্রবাহ বয়ে গেছে। বিভাগগুলো হলো ঢাকা, খুলনা, বরিশাল, রাজশাহী ও রংপুর। এসব বিভাগের মোট জেলার সংখ্যা ৪৫। এর বাইরে চাঁদপুর, নোয়াখালী ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলাতেও তাপপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশের ৪৮টি জেলা তাপপ্রবাহের আওতায় ছিল।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, চলতি বছরে এত বিস্তৃত এলাকায় একসঙ্গে তাপপ্রবাহ বয়ে যাওয়ার নজির নেই। চলতি মাসে দেশের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি থাকতে পারে। তবে শুক্রবার থেকে তাপপ্রবাহের বিস্তার কিছুটা কমে আসার সম্ভাবনা রয়েছে।
বুধবার দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে, ৩৮ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। একই দিনে রাজধানী ঢাকায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৩৬ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা চলতি মাসে রাজধানীর সর্বোচ্চ তাপমাত্রা।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃহস্পতিবারও বৃষ্টি হচ্ছে। রাজধানী ঢাকাতেও সামান্য বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। তবে এই বৃষ্টিতে গরম পুরোপুরি কমে যাওয়ার সম্ভাবনা নেই।
বাংলাদেশে সাধারণত এপ্রিল মাসে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে এবং মে মাসে থাকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা। তবে চলতি বছর এপ্রিল ও মে মাসে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় কম ছিল। বিশেষ করে এপ্রিল মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে ৭৫ শতাংশের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু জুন মাসে এসে মৌসুমি বায়ুর অনুপস্থিতিতে আবহাওয়ার চিত্র ভিন্ন রূপ নিয়েছে।
আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশীদ বলেন, বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় মৌসুমি বায়ুর দেশে প্রবেশ করতে আরও দুই থেকে তিন দিন সময় লাগতে পারে। সাধারণ সময়ের তুলনায় এবার মৌসুমি বায়ুর আগমন বেশ দেরি হচ্ছে। তিনি জানান, মৌসুমি বায়ু প্রবেশের তিন থেকে চার দিনের মধ্যে দেশজুড়ে বৃষ্টিপাতের পরিমাণ বাড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, শুক্রবার থেকে তাপপ্রবাহের বিস্তার কমে এলেও গরমের অনুভূতি খুব একটা কমবে না। বৃহস্পতিবার ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু এলাকায় বৃষ্টি হতে পারে। রাজধানীতেও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত বছর দেশে ২৫ মে মৌসুমি বায়ুর প্রবেশ ঘটেছিল। সাধারণত ৩১ মে মৌসুমি বায়ু প্রবেশ করে এবং এর সঙ্গে বৃষ্টিপাতও শুরু হয়। কিন্তু এবার মৌসুমি বায়ুর আগমন বিলম্বিত হওয়ায় দেশজুড়ে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির জন্য আরও কয়েক দিন অপেক্ষা করতে হবে বলে মনে করছেন আবহাওয়াবিদরা।
