কমিশন না বাড়লে ১ জুলাই থেকে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারি সিএনজি স্টেশন মালিকদের

 

ধারাবাহিকভাবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির দাম বৃদ্ধি, উচ্চ মূল্যস্ফীতি এবং পরিচালন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় দেশের সিএনজি খাত গভীর সংকটে পড়েছে বলে দাবি করেছেন সিএনজি স্টেশন মালিকরা। তাদের অভিযোগ, এক দশকের বেশি সময় ধরে সিএনজি বিক্রির কমিশন অপরিবর্তিত থাকায় ব্যবসা পরিচালনা ক্রমেই কঠিন হয়ে উঠছে।

শনিবার (৬ জুন) রাজধানীর বিজয়নগরে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সিএনজি ফিলিং স্টেশন অ্যান্ড কনভার্শন ওয়ার্কশপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের নেতারা কমিশন পুনর্নির্ধারণের দাবি জানান। একই সঙ্গে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত না এলে ১ জুলাই থেকে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বর্তমানে প্রতি ঘনমিটার সিএনজি বিক্রিতে স্টেশন মালিকরা ৮ টাকা কমিশন পান। বিদ্যমান অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এই কমিশন বাড়িয়ে ১৩ টাকা ৯৬ পয়সা নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা। অর্থাৎ প্রতি ঘনমিটারে অতিরিক্ত ৫ টাকা ৯৬ পয়সা কমিশন বৃদ্ধির প্রস্তাব করা হয়েছে।

মালিকদের মতে, ২০১৫ সালের পর থেকে সরকার একাধিকবার বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধি করেছে। সর্বশেষ গত ৩ জুন ঘোষিত মূল্যবৃদ্ধির ফলে সিএনজি স্টেশনগুলোর বিদ্যুৎ ব্যয় আরও বাড়বে। এই অতিরিক্ত ব্যয় সমন্বয়ের জন্য কমিশন বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তা দেখা দিয়েছে।

এছাড়া মূল্যস্ফীতি, শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধি, যন্ত্রপাতি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় এবং বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার বৃদ্ধির কারণে পরিচালন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে বলে দাবি করেন তারা। এসব ব্যয় সামাল দিতে কমিশন পুনর্নির্ধারণ জরুরি বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা।

সংগঠনের নেতারা বলেন, কমিশন বৃদ্ধির বিষয়টি নতুন কোনো দাবি নয়। এর আগে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং পেট্রোবাংলার গঠিত একটি উচ্চপর্যায়ের কারিগরি কমিটি কমিশন বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। তবে সেই সুপারিশের পুরোটা বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ করেন তারা।

তাদের দাবি, সিএনজির ক্রয়মূল্য ও বিক্রয়মূল্য সরকার নির্ধারণ করে দেওয়ায় অতিরিক্ত ব্যয় গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। ফলে ব্যবসা পরিচালনায় লোকসান বাড়ছে এবং খাতে বিনিয়োগ ঝুঁকির মুখে পড়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে নেতারা বলেন, দেশে সিএনজি খাতে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার বিনিয়োগ রয়েছে। কমিশন কাঠামোর সমন্বয় না হলে এ বিনিয়োগ এবং সংশ্লিষ্ট পরিবহন খাত ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।

সংগঠনের মহাসচিব ফারহান নূর লিখিত বক্তব্যে বলেন, ব্যবসায়ীরা জনগণের দুর্ভোগ সৃষ্টি করতে চান না। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে লোকসান দিয়ে দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করা সম্ভব নয়। তাই আগামী ৩০ জুনের মধ্যে কমিশন বৃদ্ধির বিষয়ে কার্যকর সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সভাপতি মনোরঞ্জন ভক্তসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।