ঝিনাইদহ-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজীম আনার হত্যা মামলায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেওয়া আসামি আমানুল্লা সাঈদ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াকে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। তবে এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
সোমবার (৮ জুন) বিচারপতি জাফর আহমেদ এবং বিচারপতি শাতিকা হোসেন সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনজীবী সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষ থেকে জামিনের বিরোধিতা করা হয়েছে। অ্যাটর্নি জেনারেল জানিয়েছেন, হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আদেশ স্থগিত চেয়ে মঙ্গলবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালতে আবেদন করা হবে।
মামলা-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, আমানুল্লা সাঈদ ওরফে শিমুল ভূঁইয়া, যিনি শিহাব ও ফজল মোহাম্মদ ভূঁইয়া নামেও পরিচিত, দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে সক্রিয় নিষিদ্ধ ঘোষিত পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট পার্টি-এর শীর্ষ পর্যায়ের নেতা হিসেবে পরিচিত। তদন্তে তাকে আনার হত্যাকাণ্ডের অন্যতম প্রধান পরিকল্পনাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল।
২০২৪ সালের ৫ জুন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন শিমুল ভূঁইয়া। এরপর থেকে তিনি কারাগারে ছিলেন।
জবানবন্দিতে তিনি উল্লেখ করেন, আনোয়ারুল আজীম আনারের সঙ্গে তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ও প্রভাব বিস্তারসংক্রান্ত বিরোধ ছিল। একই সঙ্গে হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী আখতারুজ্জামান শাহীন-এর সঙ্গে আনারের ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব ও আর্থিক বিরোধও ছিল। এসব বিরোধের জের ধরেই হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে তিনি আদালতকে জানান।
তদন্তসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, চিকিৎসার উদ্দেশ্যে ভারতে যাওয়ার পর ২০২৪ সালের ১২ মে নিখোঁজ হন আনোয়ারুল আজীম আনার। পরে তদন্তে উঠে আসে, ১৩ মে ভারতের নিউ টাউন এলাকার একটি ভাড়া করা ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করা হয়। হত্যার পর মরদেহ টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন স্থানে ফেলে দেওয়ার অভিযোগও তদন্তে উঠে আসে।
এ ঘটনায় ২২ মে ঢাকার শেরেবাংলা নগর থানা-এ মামলা দায়ের করেন নিহতের মেয়ে মুমতারিন ফেরদৌস ডরিন।
ঘটনার তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর ভারতীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তিনজনকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। সে সময় সংবাদ সম্মেলনে গ্রেপ্তারের তথ্য তুলে ধরেন তৎকালীন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল।
গ্রেপ্তার হওয়া তিনজন হলেন শিমুল ভূঁইয়া, তানভীর ভূঁইয়া ও সেলেস্টি রহমান। ২৪ মে তাদের আদালতে হাজির করা হয়। পরে রিমান্ড শেষে তারা আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
এদিকে একই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ভারতে সিআইডি জিহাদ হাওলাদার ও সিয়াম হোসেনসহ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করে। অন্যদিকে মামলার অন্যতম প্রধান অভিযুক্ত আখতারুজ্জামান শাহীন ঘটনার পর নেপাল হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে চলে যান বলে তদন্তকারী সংস্থার দাবি।
