নারী অভিবাসী শ্রমিকদের সুরক্ষা নিয়ে সংসদে উদ্বেগ, ২৪ ঘণ্টা সহায়তা ব্যবস্থার দাবি

 

বিদেশে কর্মসংস্থানের উদ্দেশ্যে যাওয়া বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা ও অধিকার সুরক্ষার বিষয়টি জাতীয় সংসদে গুরুত্বের সঙ্গে আলোচিত হয়েছে। এ সময় বিদেশগামী নারী শ্রমিকদের একটি বড় অংশ বিভিন্ন ধরনের নির্যাতন, বিশেষ করে যৌন সহিংসতার শিকার হন বলে দাবি তুলে সরকারের কাছে সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়।

সোমবার (৮ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের দ্বিতীয় কার্যদিবসে সম্পূরক প্রশ্নে এ বিষয়টি উত্থাপন করেন বিরোধী দলের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য মারদিয়া মমতাজ।

তিনি বলেন, জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) তথ্য অনুযায়ী ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত তিন লাখের বেশি নারী শ্রমিক বিদেশে কর্মসংস্থানের জন্য গেছেন। কিন্তু নিরাপত্তাহীনতা, বেতন না পাওয়া, চুক্তি লঙ্ঘনসহ বিভিন্ন সমস্যার পাশাপাশি প্রায় ৯৪ শতাংশ নারী শ্রমিক যৌন নির্যাতনের শিকার হন বলে পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।

মারদিয়া মমতাজ জানতে চান, বিদেশে কর্মরত নারী শ্রমিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়োগকর্তা যাচাই, বীমা সুবিধা, ২৪ ঘণ্টার জরুরি হটলাইন এবং নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র বা সেফ হোমের ব্যবস্থা আরও সম্প্রসারণের কোনো পরিকল্পনা সরকারের রয়েছে কি না।

এ সময় সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।

প্রশ্নের জবাবে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর বলেন, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি নারী শ্রমিকদের সুরক্ষা ও কল্যাণ নিশ্চিত করতে সরকার বিভিন্ন ধরনের পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

তিনি জানান, প্রবাসীদের অভিযোগ, সমস্যা বা সেবাসংক্রান্ত যেকোনো বিষয় জানাতে ১৬১৩৫ নম্বরে একটি টোল-ফ্রি হটলাইন চালু রয়েছে। বিদেশে অবস্থানরত কর্মীরাও এই ব্যবস্থার মাধ্যমে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সহায়তা পেতে পারেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, হটলাইনে কোনো অভিযোগ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। পাশাপাশি বিদেশে বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা প্রদান করা হয়।

তিনি আরও জানান, শ্রমিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন দেশের সঙ্গে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে। এসব চুক্তির ফলে শ্রমিকদের মর্যাদা, সামাজিক সুরক্ষা এবং কর্মক্ষেত্রে হয়রানির ঘটনা ঘটলে বাংলাদেশ সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিকার দাবি করতে পারে।

নুরুল হক নুর বলেন, বর্তমানে সৌদি আরবে বাংলাদেশের দুটি সেফ হোম পরিচালিত হচ্ছে। এছাড়া ওমানসহ মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশে পর্যায়ক্রমে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এর ফলে নির্যাতনের শিকার হয়ে দেশে ফিরে আসা নারী শ্রমিকের সংখ্যা আগের তুলনায় কিছুটা কমেছে।

তিনি জানান, বিদেশে সমস্যায় পড়া নারী কর্মীদের আইনি সহায়তা ও অন্যান্য সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মন্ত্রণালয় এবং সংশ্লিষ্ট দূতাবাসগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নারী কর্মীদের বিদেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে সরকার এখন আগের চেয়ে বেশি সতর্কতা অবলম্বন করছে। কর্মক্ষেত্রের পরিবেশ, শ্রমিকদের অধিকার এবং আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) মানদণ্ড অনুযায়ী সামাজিক সুরক্ষার বিষয়গুলো যাচাই করার পরই বিদেশে কর্মী পাঠানোর অনুমোদন দেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া মধ্যস্বত্বভোগী নির্ভরতা কমিয়ে এজেন্সির বাইরে সরাসরি বিদেশে কর্মী পাঠানোর সুযোগ বাড়াতে একটি ‘অ্যাডভান্স পুল’ গঠনের বিষয়েও সরকার চিন্তাভাবনা করছে বলে জানান তিনি।