দেশে পারমাণবিক বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম শুরুর আগেই জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও সমন্বিত রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তিনি বলেছেন, বিদ্যুৎ ব্যবস্থার বিভিন্ন স্তরের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় নিশ্চিত করা না গেলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। এ জন্য দ্রুত একটি স্মার্ট গ্রিডভিত্তিক কাঠামো গড়ে তোলার উদ্যোগ নিতে হবে।
সোমবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ বিভাগের আওতাধীন সঞ্চালন ও বিতরণ সংস্থাগুলোর চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকদের নিয়ে অনুষ্ঠিত এক পর্যালোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সভায় বিদ্যুৎ বিভাগের সচিব মিরানা মাহরুখ উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে দেশের বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার বর্তমান অবস্থা, বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা, স্মার্ট গ্রিড বাস্তবায়নের সম্ভাবনা এবং পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করার জন্য প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়।
সভায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মো. রেজাউল করিম এবং পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশের প্রধান প্রকৌশলী মো. মঞ্জুরুল ইসলাম বিদ্যুৎ খাতের বর্তমান সক্ষমতা, ভবিষ্যৎ চাহিদা এবং চলমান উন্নয়ন কার্যক্রম সম্পর্কে মন্ত্রীকে অবহিত করেন।
আলোচনায় বিদ্যুৎমন্ত্রী বলেন, দেশের বিদ্যুৎ খাত গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে গেছে। গ্যাসনির্ভর উৎপাদনের পাশাপাশি এখন কয়লা, সৌরশক্তি ও অন্যান্য উৎসের ব্যবহার বাড়ছে। এর ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ পারমাণবিক বিদ্যুতের যুগে প্রবেশ করতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হওয়ার আগে সঞ্চালন ও বিতরণ ব্যবস্থার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ সমন্বয় নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অতীতে এ বিষয়ে পর্যাপ্ত উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়নি বলে তিনি মন্তব্য করেন। সময়মতো প্রয়োজনীয় সংস্কার ও প্রযুক্তিগত প্রস্তুতি না নিলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয়ের আশঙ্কা রয়েছে বলেও তিনি সতর্ক করেন।
মন্ত্রী জানান, সম্ভাব্য ঝুঁকি এড়াতে এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থাকে আরও নির্ভরযোগ্য করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। একটি আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর স্মার্ট গ্রিড ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
বৈঠকে পাওয়ার গ্রিড কোম্পানি অব বাংলাদেশকে স্মার্ট গ্রিড বাস্তবায়ন বিষয়ে একটি বিস্তারিত ধারণাপত্র ও কর্মপরিকল্পনা প্রস্তুতের নির্দেশ দেন মন্ত্রী। সংস্থার পক্ষ থেকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা জমা দেওয়ার আশ্বাস দেওয়া হয়।
ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, পারমাণবিক বিদ্যুৎ অত্যন্ত উন্নত প্রযুক্তিনির্ভর খাত। তাই এর নিরাপদ পরিচালনার জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা ও প্রস্তুতি প্রয়োজন। জনগণের নিরাপত্তাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়েই সরকার কাজ করছে।
বিদ্যুৎ খাতে অতীতের বিভিন্ন প্রকল্প নিয়ে কথা বলতে গিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনীয়তা ছাড়াই গ্রহণ করা কিছু প্রকল্প চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব প্রকল্প অনুমোদন ও বাস্তবায়নের সঙ্গে কারা জড়িত ছিলেন, তা খতিয়ে দেখা হবে। তদন্তের ভিত্তিতে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও তিনি জানান।
সভা শেষে বিদ্যুৎ খাতের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন ও সুশাসন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবাইকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।
