- হাইকোর্টে শুনানির অপেক্ষা, বিশেষ বেঞ্চ গঠনের সম্ভাবনা
মাগুরায় আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি হিটু শেখের ডেথ রেফারেন্স (মৃত্যুদণ্ডাদেশ অনুমোদন) ও আপিল শুনানির জন্য পেপারবুক প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস) থেকে এই মামলার পেপারবুক ছাপানোর কাজ শেষ হয়ে হাইকোর্টে এসে পৌঁছেছে।
হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “বিজি প্রেস থেকে মামলাটির পেপারবুক প্রস্তুত করে শাখায় পাঠানো হয়েছে। এখন সেটি যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। আনুষঙ্গিক কাজ শেষ হলে প্রধান বিচারপতি শুনানির জন্য পেপারবুকটি সংশ্লিষ্ট বেঞ্চে পাঠাবেন।”
আইন অনুযায়ী, বিচারিক আদালতে কোনো আসামির মৃত্যুদণ্ড হলে তা কার্যকরে হাইকোর্টের অনুমোদন লাগে, যা ডেথ রেফারেন্স নামে পরিচিত। রায় ঘোষণার পর বিচারিক আদালত থেকে দ্রুততম সময়ে মামলার যাবতীয় নথি হাইকোর্টের ডেথ রেফারেন্স শাখায় পাঠানো হয়। এর সঙ্গে দণ্ডিত আসামিদের আপিল যুক্ত করে ক্রমানুসারে সাজিয়ে যে ভলিউম বা বই তৈরি করা হয়, তাকে পেপারবুক বলা হয়। হাইকোর্ট এই পেপারবুকের ভিত্তিতেই আপিল ও ডেথ রেফারেন্স নিষ্পত্তি করে থাকেন।
গত বছরের ৬ মার্চ মাগুরার শ্রীপুর উপজেলায় বোনের বাড়িতে বেড়াতে গিয়ে ধর্ষণের শিকার হয় আট বছরের ওই শিশু। ধর্ষক হিটু শেখ সম্পর্কে শিশুটির বোনের শ্বশুর। এ ঘটনায় শিশুটির মা বাদী হয়ে হিটু শেখসহ চারজনের বিরুদ্ধে মাগুরা সদর থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন। পরে পুলিশ তাদের গ্রেপ্তার করে। ঘটনার সাত দিন পর ১৩ মার্চ ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় শিশুটির মৃত্যু হয়।
গত বছরের ১৩ এপ্রিল পুলিশ এই মামলায় অভিযোগপত্র দেয়। ২৩ এপ্রিল হিটু শেখের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯/২ ধারায় (ধর্ষণের ফলে মৃত্যু), শিশুটির বোনের স্বামী ও ভাসুরের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৫০৬ ধারায় (ভয়ভীতি প্রদর্শন) এবং শাশুড়ির বিরুদ্ধে ২০১ ধারায় (আলামত নষ্ট) অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেয় আদালত। ২৭ এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া সাক্ষ্যগ্রহণে রাষ্ট্রপক্ষের মোট ২৯ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়। ঘটনার মাত্র দুই মাস ১১ দিনের মাথায় মামলার রায় ঘোষণা করেন মাগুরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এম জাহিদ হাসান। রায়ে মূল আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেয় আদালত। তবে অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় মামলার অপর তিন আসামি—শিশুটির বোনের স্বামী সজীব শেখ, সজীবের ভাই রাতুল শেখ ও তাদের মা জাহেদা বেগমকে খালাস দেয় আদালত।
মে মাসের শেষের দিকে মামলার ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে আসে এবং মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন হিটু শেখ। এরপর ডেথ রেফারেন্স শাখা পেপারবুক তৈরির জন্য নথিপত্র বিজি প্রেসে পাঠায়।
আলোচিত এই মামলাটির আপিল শুনানির অপেক্ষার মধ্যেই সম্প্রতি রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের আরেক শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় গত রবিবার রায় দেন বিচারিক আদালত। ওই রায়ে আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়। চাঞ্চল্যকর এই রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের জানান, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরী হাইকোর্টে একটি বিশেষ বেঞ্চ গঠন করে দেবেন। আগামী রবিবার থেকেই এই বেঞ্চে বিচারকাজ শুরু হতে পারে।
সুপ্রিম কোর্ট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, যেহেতু হিটু শেখের মামলার পেপারবুক প্রস্তুত হয়ে গেছে, তাই এই মামলার ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানির মধ্য দিয়েই হাইকোর্টের বিশেষ বেঞ্চের বিচারকাজ শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
