আদ-দ্বীনে নবজাতক মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি, ৮ কর্মকর্তাকে আইনি নোটিশ

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ-দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্তের অগ্রগতি ও দায় নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন তুলে স্বাস্থ্য প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পদক্ষেপ না নিলে এ বিষয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করারও ঘোষণা দেওয়া হয়েছে।

সোমবার (৮ জুন) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার এম. এম. জি. সারওয়ার জনস্বার্থে এ নোটিশ পাঠান। নোটিশে আগামী সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে।

নোটিশের বিবাদী হিসেবে রাখা হয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিক শাখার পরিচালক, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান ও যুগ্ম সচিব মো. মহসিন, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির প্রধান ও পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) অধ্যাপক ডা. হালিমুর রশিদ, পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এবং রমনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি)।

উল্লেখ্য, গত ২৭ মে আদ-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা আলোচনায় আসে। ঘটনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথকভাবে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করে।

নোটিশে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের উল্লেখ করে বলা হয়েছে, তদন্তে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনায় গুরুতর অবহেলা, প্রশাসনিক দুর্বলতা, দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসকদের অনুপস্থিতি, অতিরিক্ত রোগীর চাপ, পর্যাপ্ত বায়ু চলাচলের অভাব, দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা বন্ধ থাকা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার বিষয় উঠে এসেছে।

এতে আরও বলা হয়, নবজাতকদের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে স্বজনরা চিকিৎসকদের সহযোগিতা চাইলেও প্রয়োজনীয় সাড়া পাননি বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্যারিস্টার সারওয়ার নোটিশে উল্লেখ করেন, তদন্তে গুরুতর অনিয়ম ও অবহেলার তথ্য উঠে আসার পরও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়নি। তার মতে, এমন পরিস্থিতিতে প্রতিবেদন গোপন রাখা জনস্বার্থের পরিপন্থী।

তিনি আরও প্রশ্ন তোলেন, অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও হাসপাতালটি কীভাবে নিয়মিতভাবে লাইসেন্স নবায়নের অনুমোদন পেয়েছে। বিষয়টি নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর কার্যকারিতা ও তদারকি ব্যবস্থার ওপরও প্রশ্ন তৈরি করছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।

নোটিশে বলা হয়েছে, ঘটনার পর স্বাস্থ্যমন্ত্রী বিষয়টিকে গুরুতর ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে আইনি পদক্ষেপের কথা বললেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। একই সঙ্গে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংস্কার কার্যক্রমের নামে সম্ভাব্য আলামত নষ্ট করছে বলেও অভিযোগ উত্থাপন করা হয়েছে।

এ ছাড়া মৃত শিশুদের ময়নাতদন্তের বিষয়ে কোনো দৃশ্যমান সরকারি উদ্যোগ দেখা যায়নি বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে।

নোটিশে চারটি বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ চাওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ, প্রতিবেদনের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর কী ব্যবস্থা নিয়েছে তা জানানো, সব আলামত ও নথিপত্র সংরক্ষণ নিশ্চিত করা এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে কোনো পদক্ষেপ না নেওয়া হলে তার কারণ ব্যাখ্যা করা।

একই সঙ্গে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ প্রশাসন কেন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারেনি, সে বিষয়েও লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

নির্ধারিত সাত দিনের মধ্যে সন্তোষজনক জবাব ও কার্যকর পদক্ষেপ না পাওয়া গেলে নাগরিকদের জীবন, নিরাপত্তা ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার স্বার্থে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে বলে নোটিশে জানানো হয়েছে।