- বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবসে আইন সংস্কারের আহ্বান
ঢাকা: শিশুশ্রম প্রতিরোধে জন্মনিবন্ধনকে কার্যকর ও বাধ্যতামূলক করার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের মতে, প্রতিটি শিশুর জন্মের সঙ্গে সঙ্গে নিবন্ধন নিশ্চিত করা গেলে শিশুশ্রম, শোষণ ও নানা ধরনের বঞ্চনার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে।
‘রেড কার্ড টু চাইল্ড লেবার: ফেয়ার প্লে ফর চিলড্রেন, ডিসেন্ট ওয়ার্ক ফর এডাল্টস’ প্রতিপাদ্যে বৃহস্পতিবার (১২ জুন) পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষে শিশুশ্রম বন্ধে কার্যকর নীতি ও শিশু সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনকে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জন্মনিবন্ধন একটি শিশুর রাষ্ট্রীয় পরিচয়ের ভিত্তি। এটি শুধু নাগরিক পরিচয় নিশ্চিত করে না, বরং শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য মৌলিক অধিকার প্রাপ্তির পথও সুগম করে। অন্যদিকে জন্মনিবন্ধন না থাকলে শিশুর প্রকৃত বয়স নির্ধারণ কঠিন হয়ে পড়ে, যা অনেক ক্ষেত্রে তাকে অল্প বয়সে শ্রমবাজারে প্রবেশের ঝুঁকিতে ফেলে।
তথ্য অনুযায়ী, দেশে জন্মনিবন্ধনের গড় হার বর্তমানে প্রায় ৫০ শতাংশ। পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে এ হার আরও কম, প্রায় ৪০ শতাংশ। ফলে বিপুলসংখ্যক শিশু এখনো রাষ্ট্রীয় স্বীকৃত পরিচয়ের বাইরে রয়ে গেছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জন্ম ও মৃত্যু নিবন্ধন আইন, ২০০৪ সংশোধন করে হাসপাতাল ও অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের ওপর জন্মনিবন্ধনের আইনি দায়িত্ব অর্পণ করা হলে পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতি সম্ভব। কারণ দেশে প্রায় ৬৭ শতাংশ শিশুর জন্ম স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে হয়ে থাকে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে এসব নবজাতক স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধনের আওতায় আসতে পারবে।
তাদের মতে, এমন উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে জন্মনিবন্ধনের হার দ্রুত বৃদ্ধি পাবে এবং শিশুশ্রম প্রতিরোধের পাশাপাশি শিশু অধিকার সুরক্ষায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
এছাড়া ২০৩০ সালের মধ্যে সিভিল রেজিস্ট্রেশন অ্যান্ড ভাইটাল স্ট্যাটিস্টিকস (সিআরভিএস) কর্মসূচির শতভাগ নিবন্ধন লক্ষ্যমাত্রা অর্জন এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) ৮.৭ অনুযায়ী শিশুশ্রম ও শিশু শোষণের অবসান ঘটানোর প্রচেষ্টাও ত্বরান্বিত হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে গবেষণা ও অ্যাডভোকেসি প্রতিষ্ঠান প্রজ্ঞার নির্বাহী পরিচালক এবিএম জুবায়ের বলেন, “জন্মনিবন্ধন নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় আইন সংস্কার করা গেলে শিশুশ্রম কমানোর পাশাপাশি শিশুদের শোষণ ও বঞ্চনা থেকেও সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।”
