মালয়েশিয়া ও চীন সফর ফলপ্রসূ, বিনিয়োগ-বাণিজ্য সম্প্রসারণে নতুন সম্ভাবনা: মাহদী আমিন

ঢাকা, ২৭ জুন: মালয়েশিয়া ও চীন সফর শেষে দেশে ফিরে বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সংক্ষিপ্ত এই সফর বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত সফল ও তাৎপর্যপূর্ণ হয়েছে। সফরের প্রতিটি পর্বেই বাংলাদেশ সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মান ও আন্তরিক অভ্যর্থনা পেয়েছে, যা দেশের মর্যাদাকে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আরও সুদৃঢ় করেছে।

তিনি জানান, সফরের প্রথম পর্বে প্রধানমন্ত্রী মালয়েশিয়া সফর করেন। সেখানে তিনি মালয়েশিয়ার রাজা ও প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।

পরবর্তীতে চীনের দালিয়ানে অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের অধিবেশনে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী। এ সময় তিনি ফোরামের সভাপতি ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীর সঙ্গে বৈঠক করেন। পরে চীনের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে বেইজিং সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী, প্রেসিডেন্ট ও শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

মাহদী আমিন বলেন, মালয়েশিয়া ও চীনের সঙ্গে আলোচনায় বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য সম্প্রসারণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা, স্বাস্থ্য, সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমসহ জনগণের পারস্পরিক যোগাযোগ বৃদ্ধির বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে স্থান পেয়েছে। পাশাপাশি বাংলাদেশের উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় দুই দেশের সহযোগিতা আরও জোরদারের বিষয়েও আলোচনা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সঙ্গে মালয়েশিয়া ও চীনের ঐতিহাসিক সম্পর্কের বিষয়টি দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব স্মরণ করেছেন এবং তাঁদের অবদানের প্রশংসা করেছেন।

মুখপাত্র বলেন, বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা আন্তর্জাতিকভাবে নতুন স্বীকৃতি পেয়েছে। বিশেষ করে চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ককে দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত অংশীদারিত্বের পর্যায়ে উন্নীত করার ভিত্তি তৈরি হয়েছে। এর মাধ্যমে উন্নয়ন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশ একযোগে কাজ করবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং মালয়েশিয়া ও চীনের শীর্ষ নেতৃত্বের মধ্যে যে আন্তরিক ও উষ্ণ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে, তা ভবিষ্যতে বাংলাদেশের উন্নয়ন এবং জনগণের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ব্রিফিংয়ে মাহদী আমিন আরও জানান, প্রধানমন্ত্রী দেশে ফেরার সময় কোনো দলীয় নেতা-কর্মীকে বিমানবন্দরে উপস্থিত না হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কোনো র‌্যালি বা সমাবেশও আয়োজন করা হয়নি। তাঁর ভাষায়, এটি নতুন ধারার রাজনৈতিক সংস্কৃতি ও দায়িত্বশীল নেতৃত্বের একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত।