চীনের সঙ্গে সমঝোতায় দেশের গণমাধ্যমে নতুন গুণগত পরিবর্তনের আশা: তথ্যমন্ত্রী

চীনের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকগুলোর মাধ্যমে বাংলাদেশের গণমাধ্যম, বিশেষ করে নতুন ধারার গণমাধ্যমে গুণগত পরিবর্তন আসবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, আধুনিক প্রযুক্তি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় দুই দেশের যৌথ উদ্যোগ বাংলাদেশের গণমাধ্যমকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের চীন সফর শেষে রোববার (২৮ জুন) গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তথ্যমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

তিনি জানান, চীন সরকারের সঙ্গে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একাধিক সমঝোতা স্মারকে স্বাক্ষর করা হয়েছে। এসব সমঝোতার মাধ্যমে দুই দেশের তথ্য ব্যবস্থাপনায় পারস্পরিক অভিজ্ঞতা, জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে।

জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, চীনের মতো আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন দেশের সঙ্গে গণমাধ্যমে প্রযুক্তি এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়ে উভয় দেশ একমত হয়েছে। এই যৌথ উদ্যোগ দেশের নতুন ধারার গণমাধ্যমে গুণগত পরিবর্তন আনবে বলে সরকার আশাবাদী।

তিনি বলেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং এবং দেশটির জাতীয় আইনসভার শীর্ষ নেতৃত্বের পক্ষ থেকে বাংলাদেশকে যে সম্মান ও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে, তা দুই দেশের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে। এর ইতিবাচক প্রভাব বাংলাদেশের অর্থনীতি, প্রযুক্তি এবং আন্তর্জাতিক মর্যাদার ওপর পড়বে।

তথ্যমন্ত্রী আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে নতুন পর্যায়ে উন্নীত করেছে। চীনের আন্তরিকতা ও সহযোগিতার মনোভাব দুই দেশের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী করবে।

তিনি উল্লেখ করেন, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বৈঠকে বলেছেন, এ সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক গুণগতভাবে নতুন পর্যায়ে প্রবেশ করবে। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সময় যে সম্পর্কের সূচনা হয়েছিল এবং পরে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সময় যা আরও গভীর হয়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে তা নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।

উল্লেখ্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান গত ২১ জুন মালয়েশিয়া সফর শেষে চার দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যান। সফরের প্রথম দুই দিন তিনি ডালিয়ানে বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের সম্মেলনে অংশ নেন। পরে বেইজিংয়ে চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং, প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেন।

চীনের রাজধানী বেইজিংয়ের গ্রেট হল অব দ্য পিপলে অনুষ্ঠিত বৈঠকগুলোর পর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে দুটি চুক্তি এবং ১৭টি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। এর মধ্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট সমঝোতা স্মারকগুলোতে বাংলাদেশের পক্ষে স্বাক্ষর করেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।

প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী হিসেবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, জ্বালানি ও বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টারা সফরে অংশ নেন।