জুলাই আন্দোলনের কৃতিত্ব ১৮ কোটি মানুষের, একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই: সংসদে শফিকুর রহমান

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই, বরং বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষই এই আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।

রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নিয়ে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বাজেট ঘাটতি পূরণে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দৃঢ়তা ও দক্ষতার প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, সরকারের এই প্রথম বাজেট সফলভাবে বাস্তবায়িত হবে এবং এ নিয়ে বিরোধী দলের উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, মূল্যস্ফীতি ও আন্তর্জাতিক অনিশ্চয়তার মধ্যেও সরকার একটি ভারসাম্যপূর্ণ, দায়িত্বশীল ও জনবান্ধব বাজেট উপস্থাপন করেছে। এটি অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, জনকল্যাণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ বৃদ্ধির একটি বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা।

বক্তব্যের একপর্যায়ে প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমানের একটি পুরোনো বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলেন, তিনি একসময় মন্তব্য করেছিলেন যে, গণঅভ্যুত্থানের প্রধান নায়ক তারেক রহমান। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দূরে থেকেও তারেক রহমান বুদ্ধিবৃত্তিক ও সফল নেতৃত্ব দিয়েছিলেন এবং সেই নেতৃত্বের মাধ্যমেই আন্দোলন সফল হয়েছিল।

এরপরই পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে ডা. শফিকুর রহমান বিষয়টির ব্যাখ্যা দেন।

তিনি বলেন, প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্য উদ্ধৃত করলেও সময়ের বিষয়টি সঠিকভাবে উল্লেখ করেননি। যে বক্তব্য উদ্ধৃত করা হয়েছে, সেটি ছিল ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসের। আর দেশের রাজনৈতিক বাস্তবতায় পরিবর্তন আসে ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর।

বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, যাঁদের নেতৃত্বে গণঅভ্যুত্থান সফল হয়েছে, তাঁদের সবাইকে আন্তরিকভাবে সম্মান ও ভালোবাসা উচিত। সেই মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখাও সবার দায়িত্ব।

তিনি আরও বলেন, একসময় ড. মুহাম্মদ ইউনূস বিদেশ সফরের সময় একজনকে জুলাই আন্দোলনের মাস্টারমাইন্ড হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। তখন সর্বপ্রথম তিনিই এর প্রতিবাদ জানিয়ে বলেছিলেন, এই আন্দোলনের একক কোনো মাস্টারমাইন্ড নেই।

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, “আমরা আমাদের যুবসমাজকে কৃতিত্ব দিতে চাই। আর এই আন্দোলনের প্রকৃত মাস্টারমাইন্ড হচ্ছে বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষ।”

এদিকে বাজেট আলোচনায় প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার এই বাজেট বাস্তবায়নে সরকারের কোনো সমস্যা হবে না। সরকারের নিজস্ব আয়-ব্যয়ের হিসাবের ভিত্তিতেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, সরকারি বাজেটের বাইরে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব এবং রাষ্ট্রভিত্তিক সহযোগিতার মাধ্যমেও বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হবে। ফলে ঘোষিত বাজেটের বাইরেও দেশের উন্নয়নে আরও বড় পরিসরে কাজ করা সম্ভব হবে।

বক্তব্যে তিনি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ন্ত্রণ, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, পরিবার কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচির গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নিজের নির্বাচনী এলাকা জামালপুরের বাহাদুরাবাদ ও বালাসী ঘাটে যমুনা নদীর ওপর একটি সেতু নির্মাণের দাবি জানিয়ে বলেন, এই সেতু নির্মিত হলে উত্তরাঞ্চলের মানুষের যোগাযোগ ব্যবস্থা সহজ হবে এবং অর্থনৈতিক উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।