এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে তিন স্বর্ণ জিতে বাংলাদেশের নতুন ইতিহাস

প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডে তিনটি স্বর্ণপদক জিতে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন সাফল্য অর্জন করেছে বাংলাদেশ। প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া ১৮টি দেশের ১২৯ জন প্রতিযোগীর মধ্যে বাংলাদেশের তিন শিক্ষার্থী স্বর্ণপদক অর্জন করেছেন। প্রতিযোগিতায় দেওয়া মোট ১০টি স্বর্ণপদকের মধ্যে তিনটিই বাংলাদেশের ঝুলিতে এসেছে, যা অংশগ্রহণকারী দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।

স্বর্ণপদকজয়ীরা হলেন কুমিল্লার হোমনা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী লাবিব শাহরিয়ার, মৌলভীবাজার সরকারি কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী মো. সাইদুজ্জামান আরাফ এবং নটর ডেম কলেজের একাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ত্রিদিব রায় আর্য। আন্তর্জাতিক ক্রমতালিকায় তারা যথাক্রমে চতুর্থ, পঞ্চম ও নবম স্থান অর্জন করেছেন।

বাংলাদেশ দলের আরও চার সদস্য সম্মানজনক স্বীকৃতি লাভ করেছেন। তারা হলেন দারুস সালাম সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাওফিল রহমান, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী নাঈরা নাওয়ার আহমেদ, মুন্নু ইন্টারন্যাশনাল স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী অনন্য যারিফ আকন্দ এবং নটর ডেম কলেজের শিক্ষার্থী মোবতাসিম চৌধুরী প্রিয়ম। দলের অপর সদস্য ছিলেন ন্যাশনাল আইডিয়াল স্কুলের শিক্ষার্থী মুর্তজা আব্দুল্লাহ।

গত ১৩ জুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউট থেকে ভিডিও তত্ত্বাবধান ও পর্দা ধারণ পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ দলের আট সদস্য আন্তর্জাতিক এ প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। ছয় ঘণ্টাব্যাপী প্রতিযোগিতায় তারা চারটি পৃথক যন্ত্রভিত্তিক শিক্ষণ সমস্যার সমাধান করেন।

বাংলাদেশ দলের নেতা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ড. বি এম মইনুল হোসেন বলেন, এই সাফল্য দেশের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও বাংলাদেশের কার্যক্রম সঠিক পথে এগোচ্ছে এবং এই অর্জন বিশ্বমঞ্চে দেশের বুদ্ধিবৃত্তিক সক্ষমতার শক্তিশালী প্রমাণ।

দলের প্রশিক্ষক এবং ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. আজম খান বলেন, শিক্ষার্থীদের কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং দেশের জন্য সর্বোচ্চ দেওয়ার প্রত্যয়ই এই ঐতিহাসিক সাফল্যের ভিত্তি। ভবিষ্যতে আরও বড় আন্তর্জাতিক অর্জনের পথ এই অভিজ্ঞতা সুগম করবে।

বাংলাদেশ দলের একাডেমিক সমন্বয়কারী তাসনিম মাহফুজ নাফিস জানান, এবারের প্রতিযোগিতায় জ্যোতির্বিজ্ঞান, শব্দ বিশ্লেষণ, বন্য প্রাণীর চিত্র বিশ্লেষণ এবং রসায়ন বিষয়ক চারটি সমস্যা অন্তর্ভুক্ত ছিল। তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও যন্ত্রভিত্তিক শিক্ষণ দক্ষতা শিক্ষার্থীদের প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখবে।

বাংলাদেশ ওপেন সোর্স নেটওয়ার্কের সভাপতি মুনির হাসান বলেন, শিক্ষার্থীদের এই অর্জন দেশের জন্য গর্বের। নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও পুরো দল যেভাবে কাজ করেছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।

উল্লেখ্য, গত এপ্রিল মাসে বাংলাদেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডের কার্যক্রম শুরু হয়। মে মাসে আঞ্চলিক পর্ব এবং ১৬ মে বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস অ্যান্ড টেকনোলজিতে জাতীয় পর্ব অনুষ্ঠিত হয়। পরে জাতীয় নির্বাচন শিবিরের মূল্যায়নের ভিত্তিতে এশিয়া-প্যাসিফিক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অলিম্পিয়াডের জন্য বাংলাদেশ দল গঠন করা হয়। দেশের বিভিন্ন শিক্ষা ও প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের সহযোগিতায় এ কার্যক্রম পরিচালিত হয়।