স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কার্যকর ও ক্ষমতাবান হলেই দেশের গণতন্ত্র ও রাষ্ট্রব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের ক্ষমতায়নের মাধ্যমে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়া এবং গণতন্ত্রের ভিত্তিকে আরও সুদৃঢ় করা সম্ভব।
বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর কাকরাইলে ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘স্থানীয় সরকার শক্তিশালী করে নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে তৃণমূল জনপ্রতিনিধি ইউপি চেয়ারম্যান-মেম্বারদের করণীয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, উন্নত দেশগুলোতে প্রশাসন, বিচার, স্বাস্থ্যসেবা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা কাজ করে। কিন্তু স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে এই ব্যবস্থাকে কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে শক্তিশালী করা সম্ভব হয়নি।
তিনি বলেন, এখন সময় এসেছে স্থানীয় সরকারকে প্রকৃত অর্থে ক্ষমতায়ন করার। জনগণের সবচেয়ে কাছের প্রতিনিধি হচ্ছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যরা। মানুষের সমস্যা, চাহিদা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে তাদের চেয়ে বেশি কেউ জানেন না।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে হলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে হবে। তৃণমূলের জনপ্রতিনিধিদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া উন্নয়ন কার্যক্রম সফলভাবে বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
বিগত শাসনামলের সমালোচনা করে তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ স্বৈরাচারী শাসন থেকে মুক্ত হয়েছে। অতীতে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলো দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। এখন গণতন্ত্র পুনর্গঠনের সুযোগ তৈরি হয়েছে এবং শক্তিশালী স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
জনপ্রতিনিধিদের সুযোগ-সুবিধার বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সদস্যদের ভাতা সম্মানজনক পর্যায়ে উন্নীত করার বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করবেন তিনি। পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের কল্যাণে ট্রাস্ট ও তহবিল গঠনের বিষয়েও সরকার ইতিবাচক উদ্যোগ নেবে।
নির্বাচন প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান সরকার স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আগামীতে ইউনিয়ন পরিষদসহ সব স্থানীয় সরকার নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে অনুষ্ঠিত হবে। জনগণের ভোটের মাধ্যমেই চেয়ারম্যান ও সদস্যরা নির্বাচিত হবেন।
তিনি সংগঠনের নেতাদের উদ্দেশে বলেন, জেলা ও বিভাগের যথাযথ প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করে একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিটি গঠন করতে হবে। দেশের স্বার্থে বিশ্বাসী সবাইকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
বাংলাদেশ ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান-মেম্বার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. পয়গাম আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী এম ইকবাল হোসেইন।
প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হোসেইন বলেন, তৃণমূলের উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নে ইউনিয়ন পরিষদের প্রতিনিধিদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। দুর্যোগকালীন ত্রাণ বিতরণসহ বিভিন্ন কার্যক্রমে সরকার জনপ্রতিনিধিদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং স্থানীয় সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
