‘ফ্যাসিবাদ ফেরানোর চেষ্টা চলছে’: মঞ্জু

আওয়ামী লীগের ‘ফ্যাসিবাদী’ শাসনের অবসানের পরও দলটির ‘দোসররা’ দেশে থেকে তাকে আবারও প্রাসঙ্গিক করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন আমার বাংলাদেশ পার্টির (এবি পার্টি) চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু।

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তিরা যেমন ভোল বদলে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নিয়েছিল, তেমনি ২০২৪ সালের পরাজিত ফ্যাসিবাদের অনুসারীরাও এখন একইভাবে তৎপর রয়েছে।

বুধবার (২২ জুলাই ২০২৬) রাজধানীর বিজয়নগরে এবি পার্টির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বার্ষিকী উপলক্ষে ‘আলেম, ওলামা ও মাদ্রাসা শিক্ষার্থীদের প্রতিরোধ: রক্তবিধৌত জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের জয়’ শীর্ষক এ সভার আয়োজন করে এবি পার্টি।

মজিবুর রহমান মঞ্জু বলেন, আগস্টের নৃশংসতা ও ভয়াবহতা দেখে দেশের মানুষ ক্ষুব্ধ হয়েছিল। সেই ক্ষোভ থেকেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে মানুষ রাজপথে নেমে শক্তিশালী প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ফ্যাসিবাদকে দেশত্যাগে বাধ্য করে। এটাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রকৃত তাৎপর্য।

তিনি বলেন, বর্তমানে একটি গোষ্ঠী পর্দার আড়াল থেকে সেই ফ্যাসিবাদকে আবারও রাজনীতিতে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছে। তাদের এই অপচেষ্টা রুখতে জনগণকে সতর্ক থাকতে হবে।

একাত্তরের সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করে এবি পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ১৯৭১ সালে পরাজিত শক্তির অনেকেই পাকিস্তানে চলে গেলেও তাদের সহযোগীদের একটি অংশ দেশে থেকে যায় এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে আশ্রয় নেয়। একইভাবে বর্তমান ফ্যাসিবাদের কিছু অনুসারী দেশে থেকে বিভিন্ন কৌশলে দলটিকে রাজনৈতিকভাবে প্রাসঙ্গিক করার চেষ্টা করছে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে আলেম সমাজের ভূমিকার প্রশংসা করে তিনি বলেন, সাধারণ আলেম-ওলামারা সরাসরি দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত না থাকলেও দেশের সংকটময় সময়ে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন থেকে শুরু করে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানেও তাদের অবদান রয়েছে।

তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজ শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা ব্যাপকভাবে রাজপথে অংশ নেওয়ায় গণ-অভ্যুত্থান সফল হয়েছে।

২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে মঞ্জু বলেন, ওই সময় আলেম সমাজের পাশে বৃহত্তর জনসমাজ ও কিছু রাজনৈতিক দল কার্যকরভাবে দাঁড়াতে পারেনি। ফলে ফ্যাসিবাদী শাসন দীর্ঘায়িত হয়েছিল। তবে জুলাই অভ্যুত্থানে সর্বস্তরের মানুষের ঐক্যবদ্ধ অংশগ্রহণের কারণে বিজয় সম্ভব হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কাঠামোগত সংস্কার ছাড়া ভবিষ্যতে আবারও ফ্যাসিবাদ মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার ঝুঁকি থেকে যাবে। তাই রাষ্ট্রব্যবস্থায় প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে হবে।

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে খেলাফত মজলিসের সিনিয়র নায়েবে আমির আহমদ আলী কাসেমী বলেন, দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের ফলেই শেখ হাসিনার পতন হয়েছে। দেশপ্রেমিক সব শক্তির ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের কারণেই এই পরিবর্তন এসেছে।

ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব মাওলানা সানাউল্লাহ বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বীজ মূলত ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরের ঘটনাতেই রোপিত হয়েছিল।

আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন ইসলামি যুব সমাজের মহাসচিব আবদুল্লাহ আল মাসুদ খান, খেলাফত যুব মজলিসের সভাপতি জাহিদুজ্জামান, জুলাই অভ্যুত্থানের সম্মুখ যোদ্ধা মাওলানা সাদমান ফুয়াদ ও মো. আলিফ।

এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক শাহাদাতুল্লাহ টুটুলের সঞ্চালনায় সভায় উপস্থিত ছিলেন দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আবদুল হালিম খোকন, শ্রমবিষয়ক সম্পাদক শাহ আবদুর রহমান, গণশিক্ষা সম্পাদক আনোয়ার ফারুকসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

সভায় বক্তারা জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন এবং গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের স্বপ্ন পূরণে ঐক্যবদ্ধ থাকার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।