২০ আগস্ট রাষ্ট্রপতি নির্বাচন, থাকছে আগের পদ্ধতিই

দেশের ২৪তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। আগামী ২০ আগস্ট ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। তবে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতিতে পরিবর্তনের আলোচনা থাকলেও সংবিধান সংশোধন না হওয়ায় এবারও আগের নিয়মেই সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন।

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ তফসিল ঘোষণা করেন। তফসিল অনুযায়ী, ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিন এবং ১৮ আগস্ট প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময় নির্ধারণ করা হয়েছে। এর আগে জাতীয় সংসদ সচিবালয় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার তালিকা নির্বাচন কমিশনের কাছে হস্তান্তর করে।

সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে একক প্রার্থী থাকলে তিনি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হবেন। একাধিক প্রার্থী হলে জাতীয় সংসদের ৩৫০ জন সদস্য গোপন ব্যালটে ভোট দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।

অতীতের ধারাবাহিকতায় এবারও ক্ষমতাসীন দল বিএনপির মনোনীত প্রার্থীই রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি বলে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা রয়েছে। দলটির একাধিক জ্যেষ্ঠ নেতার নাম সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় থাকলেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাষ্ট্রপতি পদে কাকে মনোনয়ন দেওয়া হবে সে বিষয়ে বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন দলটির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব তাঁর ওপরই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষার্থী-জনতার অভ্যুত্থানের পর রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পদ্ধতি পরিবর্তনের লক্ষ্যে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে দীর্ঘ আলোচনা ও সংলাপ অনুষ্ঠিত হয়। সেই প্রক্রিয়ায় প্রণীত জুলাই জাতীয় সনদে রাষ্ট্রপতিকে সংসদের উচ্চকক্ষ ও নিম্নকক্ষের সদস্যদের গোপন ভোটে নির্বাচনের প্রস্তাব রাখা হয়েছিল। পাশাপাশি সংসদকে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার সুপারিশও করা হয়।

তবে এসব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় সাংবিধানিক সংশোধন এখনো হয়নি। ফলে এবারের নির্বাচন বিদ্যমান সাংবিধানিক বিধান অনুসারেই অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

বর্তমান সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদের কারণে কোনো সংসদ সদস্য দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে ভোট দিলে তার সংসদ সদস্যপদ বাতিল হওয়ার বিধান রয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ কারণেই ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীর বিজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে থাকে এবং বিরোধী দলগুলোর প্রার্থী দেওয়ার সম্ভাবনাও কম থাকে।

উল্লেখ্য, গত ২১ জুলাই রাষ্ট্রপতির পদ থেকে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে সংবিধান অনুযায়ী জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেন। সংবিধান অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতির পদ শূন্য হওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সম্পন্ন করার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

বাংলাদেশে সংসদীয় পদ্ধতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয়েছিল ১৯৯১ সালের ৮ অক্টোবর। ওই নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী আবদুর রহমান বিশ্বাস জয়ী হয়েছিলেন। এরপর অনুষ্ঠিত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনগুলোতে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীরাই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়েছেন।