নিজস্ব প্রতিবেদক
টেকসই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য স্বাধীন, দায়িত্বশীল ও শক্তিশালী গণমাধ্যম অপরিহার্য বলে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক জোরদার করতে গণমাধ্যমকে কার্যকর ভূমিকা পালনের আহ্বান জানিয়েছেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন।
শুক্রবার (৭ জুলাই) রাজধানীর একটি হোটেলে টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিল (টিইসি) আয়োজিত ‘টেকসই গণতন্ত্রে গণমাধ্যমের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনারে বক্তারা এসব কথা বলেন।
সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, গণমাধ্যম শক্তিশালী হলে গণতন্ত্রও শক্তিশালী হয়। তবে একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করতে শুধু সরকারের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। গণমাধ্যম, মালিকপক্ষ, সাংবাদিক এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকেও নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্র শুধু নির্বাচনকেন্দ্রিক কোনো ব্যবস্থা নয়, এটি একটি রাজনৈতিক ও সামাজিক সংস্কৃতি। এ সংস্কৃতিকে টেকসই করতে সহনশীলতা, ভিন্নমতের প্রতি শ্রদ্ধা এবং গণতান্ত্রিক চর্চার বিস্তার প্রয়োজন। একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করা জরুরি।
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার গুরুত্ব তুলে ধরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্য তুলে ধরাই গণমাধ্যমের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে অযাচিত আত্মসেন্সরশিপ থাকা উচিত নয়। সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সত্য ও নিরপেক্ষ সংবাদ প্রকাশে অঙ্গীকারবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা, ন্যায্য বেতন-ভাতা এবং স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ নিশ্চিত করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।
সেমিনারে প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশে নতুন সম্ভাবনার যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, তা কাজে লাগাতে হবে। সরকার ও জনগণের মধ্যে আস্থার সেতুবন্ধন তৈরিতে গণমাধ্যম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
তিনি বলেন, সরকার এমন একটি কার্যকর গণমাধ্যম পরিবেশ গড়ে তুলতে চায়, যেখানে গণমাধ্যমের মালিক, সাংবাদিক ও বিজ্ঞাপনদাতাদের স্বার্থের মধ্যে ভারসাম্য থাকবে। গণমাধ্যমকে শুধু ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিবেচনা করলে চলবে না, রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে এর ভূমিকা বিবেচনায় নিতে হবে।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, গণমাধ্যম মালিকদের জন্য ন্যায্য ব্যবসায়িক পরিবেশ নিশ্চিত না হলে এ শিল্প দীর্ঘমেয়াদে টেকসই হবে না। একই সঙ্গে সাংবাদিকদের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা ও পেশাগত মর্যাদা নিশ্চিত করাও জরুরি।
তারেক রহমানের নেতৃত্বে রাষ্ট্র সংস্কারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, গণমাধ্যম খাতেও সেই সংস্কারের ধারাকে কাজে লাগানোর আহ্বান জানান জহির উদ্দিন স্বপন। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের বিস্তার এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের ফলে গণমাধ্যমে যে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় সময়োপযোগী ও ভবিষ্যৎমুখী নীতিমালা প্রণয়নের প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
টেলিভিশন এডিটরস কাউন্সিলের আহ্বায়ক ও বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক আব্দুল হাই সিদ্দিকের সভাপতিত্বে সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ইনডিপেনডেন্ট টেলিভিশনের প্রধান বার্তা সম্পাদক মোস্তফা আকমল। স্বাগত বক্তব্য দেন টিইসির সদস্য সচিব ও সময় টেলিভিশনের সিইও সৈয়দ জুবায়ের আহমেদ।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম, প্রধান তথ্য কর্মকর্তা সৈয়দ আবদাল আহমদ, বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) মহাসচিব কাদের গনি চৌধুরী, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, প্রতিদিনের বাংলাদেশ সম্পাদক মারুফ কামাল খান এবং ডেইলি ওয়াদা সম্পাদক শফিকুল আলমসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদকরা।
বক্তারা গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, পেশাগত নিরাপত্তা এবং অর্থনৈতিক সক্ষমতা নিশ্চিত করার পাশাপাশি রাষ্ট্রের চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণমাধ্যমের কার্যকর ভূমিকা আরও শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
