আদালত অবমাননার অভিযোগে দুই আইনজীবীকে তলব, হাজিরার নির্দেশ ২৩ সেপ্টেম্বর

  • নিজস্ব প্রতিবেদক

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাম্প্রতিক একটি রায় নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্যের জেরে সুপ্রিম কোর্টের দুই আইনজীবীকে আদালত অবমাননার অভিযোগে তলব করা হয়েছে। আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁদের সশরীরে ট্রাইব্যুনালে হাজির হয়ে অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তলব করা দুই আইনজীবী হলেন মো. হাসানুজ্জামান তুষার ও মোহাম্মদ হাসান চৌধুরী।

বুধবার বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশ দেন। ট্রাইব্যুনালের অপর দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ ও বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।

এর আগে ট্রাইব্যুনাল-২–এ দুই আইনজীবীর বিরুদ্ধে আদালত অবমাননার অভিযোগ এনে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। শুনানি শেষে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি প্রাথমিকভাবে গ্রহণ করে তাঁদের সশরীরে হাজির হয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ দেন।

আদেশের পর ট্রাইব্যুনাল প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। তিনি বলেন, মঙ্গলবার আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনের বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায় নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা ও সমালোচনা হয়েছে। এর মধ্যে ওই দুই আইনজীবী রায় নিয়ে ফেসবুকে মন্তব্য করেছেন।

রাষ্ট্রপক্ষের এই কৌঁসুলির ভাষ্য, আইনজীবীরা আদালত ও বিচারিক সিদ্ধান্ত সম্পর্কে কী ধরনের বক্তব্য দিতে পারেন, সে বিষয়ে অবগত। তাই তাঁদের ফেসবুকের মন্তব্য ট্রাইব্যুনালের নজরে আনা হয়েছে।

মঙ্গলবার জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে ওবায়দুল কাদেরসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।

রায়ের পর হাসানুজ্জামান তুষার একটি সংবাদ প্রতিবেদন ফেসবুকে শেয়ার করে ট্রাইব্যুনালকে ‘অবৈধ ক্যাঙ্গারু কোর্ট’ উল্লেখ করে রায়ের নিন্দা ও প্রত্যাখ্যানের কথা জানান। একই পোস্টের মন্তব্যে মোহাম্মদ হাসান চৌধুরীও ট্রাইব্যুনালের রায়কে ‘অবৈধ’ ও ‘ফরমায়েশি’ উল্লেখ করে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান।

রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি তামীম বলেন, অন্যরাও রায় নিয়ে মন্তব্য করলেও এই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আবেদন করার কারণ হলো তাঁরা আইনজীবী এবং আদালতের বিষয়ে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে তাঁদের আইনগত সীমারেখা সম্পর্কে জানার কথা।

তিনি আরও বলেন, আদালত অবমাননার বিষয়ে ব্যবস্থা না নেওয়া হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আদালত সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। এ কারণে বিষয়টি ট্রাইব্যুনালের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপক্ষ ১৯৭৩ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের ১১(৪) ধারার বিষয়টিও তুলে ধরে। ওই ধারায় ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রমে বাধা সৃষ্টি, সংশ্লিষ্ট কাউকে হুমকি দেওয়া কিংবা আদালত অবমাননাকর কোনো কর্মকাণ্ডের জন্য শাস্তির বিধান রয়েছে বলে জানান কৌঁসুলি।

এখন আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১০টায় দুই আইনজীবীর সশরীরে উপস্থিত হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ব্যাখ্যা দেওয়ার কথা রয়েছে।