ফারহান–বাবরের জুটি ও উসমান তারিকের হ্যাটট্রিকে জিম্বাবুয়েকে উড়িয়ে ফাইনালে পাকিস্তান

আগের ম্যাচ যেখানে শেষ করেছিলেন, সেখান থেকেই যেন শুরু করলেন সাহিবজাদা ফারহান। ঝড়ো ব্যাটিংয়ে করলেন টানা দ্বিতীয় ফিফটি। আরেকবার পঞ্চাশ ছুঁয়ে বাবর আজম স্পর্শ করলেন একটি রেকর্ড। এই দুইজনের শতরানের জুটি, এরপর ফাখার জামানের শেষের ধাপ্পা—সব মিলিয়ে বড় সংগ্রহ তোলে পাকিস্তান। পরে উসমান তারিকের দুর্দান্ত বোলিং ও হ্যাটট্রিকে অনায়াসেই জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে ফাইনালে জায়গা করে নেয় সালমান আলি আগার দল।

ত্রিদেশীয় টি-টোয়েন্টি সিরিজে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় দেখায় পাকিস্তানের জয় ৬৯ রানে। প্রাথমিক পর্বে নিজেদের প্রথম তিন ম্যাচেই জিতল তারা।

রোববার রাওয়ালপিন্ডি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে টসে জিতে ব্যাটিং নিয়ে ২০ ওভারে ১৯৫ রানের পুঁজি গড়ে পাকিস্তান। জবাবে শুরুতেই ধসে পড়ে জিম্বাবুয়ে। ৬৩ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর রায়ান বার্লের অপরাজিত ইনিংসে তারা শেষ পর্যন্ত ১২৬ রান পর্যন্ত যেতে পারে। দলের ৯ ব্যাটারই দুই অঙ্কে পৌঁছাতে পারেননি।

পাকিস্তানের হয়ে ইনিংস সেরা ৭৪ রান আসে বাবর আজমের ব্যাট থেকে—৭ চার ও ২ ছক্কায় ৫২ বলের ইনিংস। আগের ম্যাচে ৮০* করার পর এদিন সাহিবজাদা ফারহান করেন ৪১ বলে ৬৩ (৪ চার, ৩ ছক্কা)। দ্বিতীয় উইকেটে দুজন মিলে ৭৭ বলে ১০৩ রানের বড় জুটি গড়েন।

এবারের ফিফটিতে বাবর আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে নিজের ফিফটির সংখ্যা নিলেন ৩৮–এ, যা এই ফরম্যাটে সর্বোচ্চ। তিনি ছুঁয়ে ফেললেন ভারতের বিরাট কোহলিকে, যার ফিফটিও ৩৮টি। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজ দিয়ে দলে ফেরার পর এটি বাবরের দ্বিতীয় ফিফটি, সব মিলিয়ে শেষ ৬ ইনিংসে দ্বিতীয়বার পঞ্চাশ ছোঁয়া।

সিকান্দার রাজাকে ছক্কা মারার পরের বলেই বোল্ড হয়ে ফিরে যান সাহিবজাদা, ভাঙে তাদের শতরানের জুটি। এরপর ফাহিম আশরাফ, মোহাম্মদ নাওয়াজ ও বাবর দ্রুতই আউট হন। তবে শেষ ওভারে ব্র্যাড ইভান্সকে তিন ছক্কা ও এক চারে ফাখার জামান খেলেন ১০ বলে অপরাজিত ২৭ রানের ইনিংস। শেষ বলে ক্যাচ দিলেও ইভান্স ‘ওভারস্টেপ’ করায় বেঁচে যান তিনি এবং ফ্রি–হিটে ছক্কা মেরে ইনিংস শেষ করেন।

রান তাড়ায় জিম্বাবুয়ে শুরু থেকেই চাপে পড়ে দুই ওপেনার টাডিওয়ানশে মারুমানি ও ব্রায়ান বেনেটকে হারিয়ে। এরপর তিনে নেমে ব্রেন্ডান টেইলরও ফেরেন খুব দ্রুতই। কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল—চতুর্থ উইকেটে ৩৪ রানের জুটি। রাজা ২৩ করে বিদায় নেওয়ার পর ধস নামে তাদের ব্যাটিংয়ে।

১০তম ওভারে পরপর তিন বলে টনি মুনিয়োঙ্গা, টাশিঙ্গা মুসেকিওয়া ও ওয়েলিংটন মাসাকাদজাকে ফেরান উসমান তারিক—পূর্ণ করেন দুর্দান্ত হ্যাটট্রিক। ওই ওভারটি ছিল ‘মেইডেন’; কোনো রান দেননি। ক্যারিয়ারের মাত্র দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৪ ওভারে ১৮ রানে ৪ উইকেট নিয়ে ম্যাচ–সেরা হন ২৭ বছর বয়সী এই অফ–স্পিনার।

এই সংস্করণে হ্যাটট্রিক করা পাকিস্তানের চতুর্থ বোলার তিনি। এর আগে ২০১৭ সালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ফাহিম আশরাফ, ২০১৯ সালে একই দলের বিপক্ষে মোহাম্মদ হাসনাইন এবং গত সেপ্টেম্বরে আফগানিস্তানের বিপক্ষে মোহাম্মদ নাওয়াজ এই কীর্তি গড়েছিলেন।

৮২ রানে ৯ উইকেট হারানোর পর জিম্বাবুয়ে ছিল একশর নিচে অল–আউট হওয়ার আশঙ্কায়। সেখান থেকে রায়ান বার্ল ৪৯ বলে ৮ চার ও ২ ছক্কায় অপরাজিত ৬৭ রানের দুর্দান্ত ইনিংস খেলেন। রিচার্ড এনগারাভাকে নিয়ে দশম উইকেটে ৪৪ রানের জুটি গড়েন, যা জিম্বাবুয়ের টি-টোয়েন্টিতে দশম উইকেটে নতুন রেকর্ড। আগের রেকর্ড ছিল ২৯ রান—ডোনাল্ড টিরিপানো ও ক্রিস এমপোফুর (নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে, ২০১৯)।

এনগারাভা রান–আউট হলে ভাঙে জুটি, এরপরই শেষ হয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস।

প্রাথমিক পর্বে পাকিস্তান ও জিম্বাবুয়ে—দুই দলেরই এক ম্যাচ করে বাকি। সেখানে তাদের প্রতিপক্ষ শ্রীলঙ্কা। প্রথম দেখায় শ্রীলঙ্কাকে হারানো জিম্বাবুয়ে মঙ্গলবার জিতলে ফাইনালে উঠবে।


সংক্ষিপ্ত স্কোর

পাকিস্তান:
২০ ওভারে ১৯৫/৫ (সাহিবজাদা ৬৩, সাইম ১৩, বাবর ৭৪, ফাহিম ৩, নাওয়াজ ৪, সালমান ১*, ফাখার ২৭*; এনগারাভা ১ উইকেট, ইভান্স ১ উইকেট, রাজা ২ উইকেট)

জিম্বাবুয়ে:
১৯ ওভারে ১২৬ (বেনেট ৯, মারুমানি ৪, টেইলর ৮, রাজা ২৩, বার্ল ৬৭*; নাওয়াজ ২–২১, নাসিম ১–৩১, ওয়াসিম ১–২৫, ফাহিম ১–৩০, উসমান ৪–১৮)

ফল: পাকিস্তান ৬৯ রানে জয়ী
ম্যাচসেরা: উসমান তারিক