বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক জাহানারা আলমের করা যৌন হয়রানির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেছে। এর ফলে সাবেক জাতীয় ক্রিকেটার মঞ্জুরুল ইসলামকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) আওতাধীন সব ধরনের ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
বিসিবির পরিচালনা পর্ষদের ভার্চুয়াল সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সভা শেষে সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে বিসিবি।
গত ৪ ফেব্রুয়ারি বিসিবি জানিয়েছিল, জাহানারার করা চারটি সুনির্দিষ্ট যৌন হয়রানির অভিযোগের মধ্যে দুটির প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। এর ১৮ দিন পর বোর্ডের সভায় চূড়ান্ত শাস্তির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বিসিবির বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, স্বাধীন তদন্ত কমিটির অনুসন্ধানের ভিত্তিতে মঞ্জুরুল ইসলামকে বিসিবির আওতাধীন সব ধরনের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ চাকরি এবং ক্রিকেট-সম্পর্কিত কার্যক্রম থেকে নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি তদন্ত কমিটির সুপারিশ পর্যালোচনা করে প্রয়োজনে আরও ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
গত নভেম্বরে ফ্রিল্যান্স ক্রীড়া সাংবাদিক রিয়াসাদ আজিমের ইউটিউব চ্যানেলে সাক্ষাৎকার দেন জাহানারা। সেখানে তিনি অভিযোগ করেন, ২০২২ সালে নিউ জিল্যান্ডে বিশ্বকাপ চলার সময় দলের ম্যানেজার ও তখনকার নির্বাচক মঞ্জুরুল ইসলাম তাকে কুপ্রস্তাব দেন। সেই প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় পরে মানসিক নির্যাতন ও যৌন হেনস্তার শিকার হতে হয় তাকে।
একই সময়ে নারী ক্রিকেটের সাবেক ইনচার্জ ও সাবেক বিসিবি সভাপতির ব্যক্তিগত সহকারী প্রয়াত তৌহিদ মাহমুদের বিরুদ্ধেও একই ধরনের অভিযোগ আনেন জাহানারা। এছাড়া টিম ম্যানেজমেন্ট ও বোর্ডের আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধেও অভিযোগ রয়েছে তার। তিনি জানান, তৎকালীন নারী বিভাগের চেয়ারম্যান শফিউল ইসলাম চৌধুরী এবং বিসিবির প্রধান নির্বাহী নিজামউদ্দিন চৌধুরীকে বিষয়টি জানানোর পরও কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
অভিযোগ ওঠার দুই দিন পর তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করে বিসিবি। পরে আরও দুই সদস্য যুক্ত করে পাঁচ সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। জাহানারা অস্ট্রেলিয়া থেকে লিখিত অভিযোগ জমা দিলে ২২ ডিসেম্বর তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় ৩১ জানুয়ারি নির্ধারণ করে দেয় বিসিবি। অবশেষে ২ ফেব্রুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা পড়ে এবং শাস্তির ঘোষণা আসে আরও ২০ দিন পর।
জাহানারা আলম বাংলাদেশের নারী ক্রিকেটের অন্যতম সফল পেসার। তিনি ৫২ ওয়ানডে ও ৮৩টি টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেছেন। সবশেষ ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে তাকে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে দেখা গেছে। বর্তমানে তিনি অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে ক্লাব ক্রিকেট খেলার পাশাপাশি কোচিং কোর্স করছেন।
অভিযুক্ত মঞ্জুরুল ইসলাম বাংলাদেশের হয়ে ১৭টি টেস্ট ও ৩৪টি ওয়ানডে খেলেছেন। খেলোয়াড়ি জীবন শেষে দীর্ঘদিন বিসিবির কোচ হিসেবে কাজ করেন। পরবর্তীতে নারী দলের নির্বাচক ও ম্যানেজারের দায়িত্ব পালন করেন। সম্প্রতি তিনি চীনে কোচিং করাচ্ছিলেন।
