শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ায় দামে স্থিতি, টমেটো ছাড়া অধিকাংশ সবজির মূল্যই কমেছে

রাজধানীর বাজারে শীতকালীন সবজির সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় টমেটো ও করোলা ছাড়া প্রায় সব ধরনের সবজির দাম কিছুটা কমেছে। গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে এই দাম কমার প্রবণতা লক্ষ্য করা গেছে। বর্তমান সরবরাহ আরও প্রায় দু’মাস অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশা করছেন ক্রেতারা।

মৌসুমি সরবরাহ বেড়ে যাওয়ায় সিম, শালগম ও ফুলকপির দাম সর্বনিম্ন ২০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে। অধিকাংশ শীতের সবজি এখন সর্বোচ্চ ৮০ টাকা কেজি দরের মধ্যেই কিনতে পাওয়া যাচ্ছে। তবে টমেটো এখনও উচ্চমূল্যে বিক্রি হচ্ছে। শুক্রবার টমেটো কেজিপ্রতি ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে, যেখানে গত সপ্তাহে এর দর ছিল ৮০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে।

মাসের শুরুতে শীতের সবজি ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হলেও পরের সপ্তাহে দাম কিছুটা কমে আসে। প্রায় এক সপ্তাহ ধরে সবজি ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হওয়ার পর পুনরায় দাম বাড়তে শুরু করে। বিচিযুক্ত সিমের দামও কিছু সময়ের জন্য বেড়েছিল, তবে তা আবার ৮০ টাকা কেজিতে নেমে এসেছে।

ঢাকার রায়েরবাজার, শনির আখড়া ও যাত্রাবাড়ী কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা গেছে, খুচরা পর্যায়ে নানা জাতের সবজি এখন কম দামে পাওয়া যাচ্ছে।

রায়েরবাজার বাজারের গৃহিণী সালমা বেগম বলেছেন, “জিনিসপত্রের দাম যাই হোক একটু হাতের মধ্যে থাকলে সমস্যা নাই। একটা না একটা কম দামে পাওয়া যায় তখন। যে জিনিসের দাম বেশি, সেটা না হয় পরে খেলাম। এখন যে দাম, তাতে কৃষকও বাঁচবে, দোকানিরও লাভ হবে, আমরাও একটু খেতে পারব।”

তবে পেঁয়াজের বাজারে খুব বেশি সুখবর নেই। যাত্রাবাড়ী বাজারে মুড়ি কাটা পেঁয়াজের দাম ১০ টাকা কমে কেজিপ্রতি ৫০ টাকা হয়েছে। পেঁয়াজ পাতা এক মুঠো ২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। দোকানি আবুল কাশেমের তথ্য অনুযায়ী, দেশি পেঁয়াজ এখন ১৩০ টাকা কেজি, আর ভারতীয় পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ১০০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে দেশি পেঁয়াজ সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা এবং আমদানিকৃত পেঁয়াজ ৮০ থেকে ১০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল।

রাষ্ট্রায়ত্ত ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) দৈনিক বাজার দরের তথ্য বলছে, শুক্রবার ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন বাজারে দেশি পেঁয়াজ ৮০ থেকে সর্বোচ্চ ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। অন্যদিকে আমদানিকৃত পেঁয়াজ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১১০ টাকা কেজি দরে।

শনির আখড়া কাঁচাবাজারে দোকানি মোহাম্মদ রাসেল এখন ঢেঁড়স ও পটল ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন। তার মতে, গত এক সপ্তাহে এগুলোর দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা কমেছে।

যাত্রাবাড়ীতে গোলবেগুন এখন ৭০ টাকা কেজি, লম্বা বেগুন ৫০ টাকা কেজি এবং চিকন বেগুন বিক্রি হচ্ছে ৩০ টাকা কেজি দরে। আগের সপ্তাহে এই দাম ছিল যথাক্রমে ১০০, ৬০ ও ৪০ টাকা।

বাজারে কয়েক ধরনের সিম আসায় এর দাম এখন কেজিপ্রতি ৩০ থেকে সর্বোচ্চ ৮০ টাকার মধ্যে। তবে বিচিযুক্ত সিম বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা কেজি দরে, যা গত সপ্তাহেও একই দর ছিল।

যাত্রাবাড়ীর ক্রেতা আওলাদ হোসেন টিটু বলেন, “শুক্রবার সকাল সকাল বাজার করতে এসেছিলাম। ছাত্রনেতা হাদির ঘটনা শোনার পর তো সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গেল। টেনশনে ছিলাম, মাছের ট্রাক ঢুকতে পারবে কি না, তাই দেরি করে আসছিলাম। সবজি-টবজি তো পাওয়া গেল। মাছ কিনতেও সমস্যা হয়নি। আড়তওয়ালারা লোকসান থেকে বাঁচলো, নইলে তো সমস্যা হয়ে যেত।”

যাত্রাবাড়ীতে কাঁচা মরিচের দাম কমে এখন ৮০ টাকা কেজি, যা আগের সপ্তাহে ছিল ১২০ টাকা। নতুন আলু কাজলা বৌ বাজারে দোকানি রাজিব হোসেন ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি করছেন, আগের সপ্তাহে যার দর ছিল ৮০ টাকা কেজি।

এছাড়া, এই বাজারে বাঁধাকপি ও ফুলকপি প্রতিটি ২০ টাকা, করোলা ৮০ টাকা কেজি এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাছের বাজারে যাত্রাবাড়ীতে রুই মাছ কেজিপ্রতি ২০ টাকা কমে ৩১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলাপিয়া মাছ ১০ টাকা কমে ২১০ টাকা কেজি এবং পাঙ্গাস মাছ ২০ টাকা কমে ১৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিক্রেতা তৈয়ব আলী।

এ বাজারে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত থেকে কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকায় স্থির রয়েছে। ডিমের দামও আগের সপ্তাহের মতোই হালি প্রতি ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।