ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের দুই সপ্তাহ আগে যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার ১১৮ জন কর্মকর্তাকে একসঙ্গে পদোন্নতি দিয়ে অতিরিক্ত সচিব করল অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
মঙ্গলবার রাতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এই পদোন্নতির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, নতুন করে দায়িত্ব বণ্টনের আগে পদোন্নতিপ্রাপ্ত এই কর্মকর্তাদের আপাতত সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) হিসেবে রাখা হয়েছে।
সরকারের এই শেষ সময়ে অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার দুই শতাধিক কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে বলে আগেই সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছিল। এ প্রক্রিয়ায় ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীদের ব্যক্তিগত সচিব (পিএস) এবং জেলা প্রশাসক (ডিসি) সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তারা বাদ পড়ছেন বলে কর্মকর্তা মহলে আভাস ছিল।
এই সর্বশেষ পদোন্নতির পর বর্তমানে কর্মরত অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪০৩ জন। সরকারি কর্মচারী বাতায়নের তথ্য অনুযায়ী, পদোন্নতির আগে অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা ছিল ২৮৫ জন। অথচ অতিরিক্ত সচিব পদের মোট সৃষ্ট পদ রয়েছে মাত্র ৪১৮টি।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন, “২০২১ সালের ২৯ অক্টোবর ২০তম ব্যাচের বেশ কয়েকজন কর্মকর্তাকে যুগ্ম সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়েছিল। ওই ব্যাচের প্রায় ২৫৬ জন কর্মকর্তা পদোন্নতির যোগ্য, এবং লেফট আউট, ইকোনমিক ক্যাডার ও অন্যান্য ক্যাডার মিলিয়ে আরও প্রায় ৭০ জন পদোন্নতির অপেক্ষায় রয়েছেন। তাদের আরও আগেই পদোন্নতি হওয়ার কথা ছিল।”
তিনি আরও উল্লেখ করেন, “২৪তম ব্যাচের মোট ৩৪৪ জন কর্মকর্তার মধ্যে ১৯৬ জনকে গত বছরের মার্চেই পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। সেখানে এখনও ১৮০ জন কর্মকর্তা বাকি রয়েছেন, যারা পদোন্নতির জন্য অপেক্ষমাণ। সবমিলিয়ে দুই শতাধিকের বেশি কর্মকর্তাকে পদোন্নতি দেওয়ার জন্য ইতোমধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। সরকারের চূড়ান্ত নির্দেশনা পাওয়া মাত্রই তা বাস্তবায়ন করা হবে।”
নির্বাচনের আগে এত ব্যাপক সংখ্যক পদোন্নতিকে নিয়মের লঙ্ঘন বলে মনে করছেন না বাংলাদেশ লোকপ্রশাসন প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক রেক্টর ও সাবেক সচিব একেএম আবদুল আউয়াল মজুমদার। তিনি বলেন, “এটা রুটিন ওয়ার্ক। তারা (সরকার) তা-ই করতে পারে। এটার সাথে নির্বাচনের কোনো সম্পর্ক নেই। কারণ এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কোনো সদস্য তো সংসদ সদস্য পদে প্রার্থী হচ্ছেন না।”
তবে শূন্য পদ না থাকার পরও এভাবে ঢালাওভাবে পদোন্নতি প্রদানের সমালোচনা করে তিনি যোগ করেন, “পদ শূন্য নেই, অথচ পদোন্নতি সরকার গত ৫ আগস্টের পর থেকে দিয়েই চলেছে। আমি সব সময় বলে আসছি যে, পদ ছাড়া পদোন্নতি প্রদান বন্ধ হওয়া উচিত। পদ ছাড়া পদোন্নতি দেওয়া হলে তা প্রশাসনিক অনাচার হিসেবে দেখা দেয়।”
