ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকারী দেশগুলোর উপর শুল্ক বারানোর  হুমকি :  ট্রাম্প

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোর উপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন। তিনি এ সংক্রান্ত একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন বলে জানা গেছে। এই আদেশে শুল্কের হার স্পষ্টভাবে উল্লেখ না করা হলেও, উদাহরণ হিসেবে ২৫ শতাংশ হারকে চিহ্নিত করা হয়েছে।

নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, যেসব দেশ প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে ইরান থেকে পণ্য বা সেবা আমদানি করে, তাদের সেইসব পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের সময় এই শুল্ক কার্যকর হতে পারে। ট্রাম্প সরাসরি এই আদেশ নিয়ে মন্তব্য না করলেও, তিনি পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন যে ইরানকে কোনো অবস্থাতেই পারমাণবিক অস্ত্র বানাতে দেওয়া হবে না।

এই হুমকি আসে এমন এক সময়ে, যখন ওমানে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মধ্যে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে দুদেশের মধ্যে উত্তেজনা ও পাল্টা হুমকির পর এই বৈঠকটি গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত হচ্ছে। এ বছরের শুরুতে ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও অনুরূপ শুল্কের হুমকি দিয়েছিলেন।

হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, এই নির্বাহী আদেশে ‘ইরান সংক্রান্ত চলমান জাতীয় জরুরি অবস্থা’ পুনর্ব্যক্ত হয়েছে এবং প্রেসিডেন্ট প্রয়োজনে এতে পরিবর্তন আনতে পারবেন। তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, পারমাণবিক কর্মসূচি, সন্ত্রাসবাদে সহায়তা, ক্ষেপণাস্ত্র উন্নয়ন ও আঞ্চলিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির মাধ্যমে ইরান মার্কিন নিরাপত্তা ও স্বার্থকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে যুক্তরাষ্ট্র মনে করে।

ওমানের বৈঠকে ইরানের পক্ষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এবং যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জারেড কুশনার উপস্থিত ছিলেন। ট্রাম্প এই বৈঠককে ‘খুব ভালো’ বলে আখ্যায়িত করেছেন এবং ইরান চুক্তি করতে আগ্রহী বলে মন্তব্য করেছেন। তবে তিনি সতর্ক করেছেন যে চুক্তি না হলে ইরানের জন্য পরিণতি করুণ হবে। ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আলবুসাইদির মতে, বৈঠকটি উভয় পক্ষের অবস্থান পরিষ্কার করতে সাহায্য করেছে।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরাগচি এই বৈঠককে ‘ভালো শুরু’ এবং ‘ইতিবাচক’ বলে বর্ণনা করেছেন। আলোচকরা এখন পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বিবেচনার জন্য নিজ নিজ দেশে ফিরে গেছেন।

এই আলোচনা চলার মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্র গত কয়েক সপ্তাহ ধরে মধ্যপ্রাচ্যে তার সামরিক উপস্থিতি বড় আকারে বাড়িয়েছে। ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনের ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় অঞ্চলটিতে একটি ‘বিশাল নৌবহর’ পাঠানো হয়েছে।

বিক্ষোভ দমনে ইরানি কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপের কথা বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা উল্লেখ করেছে। তারা দাবি করেছে, এই দমনপীড়নে হাজার হাজার মানুষের জীবন নাশ হয়েছে। তবে ইরানে ইন্টারনেট সেবা সীমিত থাকায় পুরো ঘটনার বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। ইরান সর্বদাই তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ বলে দাবি করে আসছে এবং পরমাণু অস্ত্র তৈরির অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে চলেছে।