নির্বাচন পরবর্তী গেজেট প্রকাশ: তড়িঘড়ির অভিযোগ অস্বীকার ইসির

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনের ফলাফলের গেজেট প্রকাশে ‘তড়িঘড়ি’ করার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন নির্বাচন কমিশনার মো. আনোয়ারুর ইসলাম সরকার। তিনি বলেছেন, বেসরকারি ফলাফল ঘোষণার পর যথাসময়েই নির্বাচিতদের তালিকা গেজেট আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। কোনো দলের অভিযোগ থাকলে তারা আইন অনুযায়ী আদালতে যেতে পারবেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি দেশের ২৯৯টি আসনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। এর পরদিনই (১৩ ফেব্রুয়ারি) রাতে ২৯৭ আসনের নির্বাচিত প্রার্থীদের নাম গেজেট আকারে প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।

এবারের নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তোলে। দলটির নেতারা গেজেট প্রকাশে ‘তড়িঘড়ি’র অভিযোগ এনে ৩২টি আসনের ফল পুনর্গণনার দাবি জানান। রোববার তারা নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে বৈঠক করে এ বিষয়ে আলোচনা করেন।

পরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে নির্বাচন কমিশনার আনোয়ারুল ইসলাম সরকার বলেন, “তড়িঘড়ি করার প্রশ্নই আসে না। আমরা প্রতিনিধি দলের সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছি। আইনের ভেতর থেকেই, নিয়ম অনুযায়ী যথাসময়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। প্রযুক্তির যুগে আমরা আরও স্মার্টভাবে প্রকাশের ব্যবস্থা নিয়েছি। বরং আরও আগে প্রকাশ করা গেলে ভালো হত।”

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এএইচএম হামিদুর রহমান দুপুরে জানান, ভোটগণনা ও ফল প্রকাশে ত্রুটির বিষয়ে তারা ৩২টি আসন চিহ্নিত করেছেন। গেজেট হয়ে যাওয়ায় এখন আর অভিযোগের সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে নির্বাচন কমিশনার বলেন, “এবার ভোটকেন্দ্র ব্যবস্থাপনা ছিল স্বচ্ছ। সুরক্ষা অ্যাপ ব্যবহার করে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। সবকিছু আয়নার মতো পরিষ্কার ছিল। কোনো অভিযোগ আমাদের দৃষ্টিগোচর হলে শতভাগ সমাধানের চেষ্টা করেছি। আইনগত দাবির বিষয়ে হাই কোর্টের শরণাপন্ন হলে সিদ্ধান্ত হবে।”

গণপ্রতিনিধি আদেশের (আরপিও) ৪৯ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, ভোটের ফল নিয়ে বিরোধ থাকলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি গেজেট প্রকাশের ৪৫ দিনের মধ্যে হাই কোর্টে আবেদন করতে পারবেন।

ইতিমধ্যে ২৯৭ আসনের নির্বাচিত প্রার্থীদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আগামী মঙ্গলবার তারা সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেবেন।

শেরপুর-৩ আসনে একজন প্রার্থীর মৃত্যুতে আগেই ভোট বাতিল করা হয়। এই আসনে নতুন করে তফসিল দেবে ইসি। এছাড়া চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে প্রার্থিতা নিয়ে মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত ফল ঘোষণা স্থগিত রেখেছে আদালত।

এবার বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান দুটি আসনে নির্বাচিত হয়েছেন। আইন অনুযায়ী তাকে একটি আসন ছেড়ে দিতে হবে, ফলে সেখানে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচন কমিশনার জানান, কোন আসনটি তিনি রাখবেন বা ছেড়ে দেবেন—এ বিষয়ে এখনও ইসিতে কিছু জানানো হয়নি। শেরপুর-৩ আসনের নির্বাচন নিয়েও অচিরেই সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।