দুর্নীতির অভিযোগ ‘গুজব’, বিদেশে কোনো সম্পদ নেই: আসিফ নজরুল

নিজের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেছেন, জীবনে কখনো কোনো ধরনের দুর্নীতিতে জড়াননি এবং বাংলাদেশের বাইরে তার কোনো বাড়ি বা সম্পত্তি নেই।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া দীর্ঘ এক বক্তব্যে আসিফ নজরুল বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার বিদায়ের পর আবার নতুন করে তার ও তার কয়েকজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে নানা ধরনের অভিযোগ ছড়ানো শুরু হয়েছে। তার দাবি, প্রথমে কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব অভিযোগ প্রকাশ করা হয় এবং পরে তা বিভিন্ন গণমাধ্যমেও আলোচনায় আসে।

তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, সরকারি দায়িত্ব পালনকালে কিংবা ব্যক্তিগত জীবনের কোনো সময়েই তিনি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। এমনকি নিজের অজান্তেও কাউকে দুর্নীতি করার সুযোগ দেননি বলে উল্লেখ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি জানান, তার নামে কোনো নতুন ব্যাংক হিসাব বা গোপন সম্পদের তথ্যও নেই।

অন্তর্বর্তী সরকারের সময় তিনি আইন উপদেষ্টার পাশাপাশি প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে ছাত্র উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার পদত্যাগ কার্যকর হওয়ার পর তাকে ক্রীড়া উপদেষ্টার দায়িত্বও দেওয়া হয়। দায়িত্ব পালনকালে কয়েকটি সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে তিনি জনসমালোচনার মুখেও পড়েন।

বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে ঘিরে একটি সিদ্ধান্তের পর তার ভূমিকা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়। সেই সময় থেকেই তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ ও গুজব ছড়াতে থাকে বলে তিনি দাবি করেন।

সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, প্রায় এক বছর আগে ইউটিউবসহ বিভিন্ন অনলাইন মাধ্যমে প্রচার করা হয় যে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে একটি বাড়ি কিনেছেন এবং পরিবারসহ সেখানে চলে যাওয়ার পরিকল্পনা করছেন। তবে তিনি এটিকে ‘গাজাখুরি গল্প’ আখ্যা দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে বাড়ি কিনলে তা সরকারি রেকর্ডে থাকে এবং সহজেই যাচাই করা সম্ভব।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি প্রকাশ্যে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন—যদি কেউ যুক্তরাষ্ট্রে তার বাড়ির সুনির্দিষ্ট ঠিকানা বা মালিকানার কোনো দলিল দেখাতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও এমন কোনো প্রমাণ কেউ দিতে পারেনি। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র তো দূরের কথা, বাংলাদেশের বাইরে পৃথিবীর কোনো দেশেই তার কোনো সম্পত্তি নেই।

স্বজনপ্রীতির অভিযোগ নিয়েও নিজের অবস্থান ব্যাখ্যা করেন তিনি। তার দাবি, দায়িত্বে থাকার সময় প্রায় পাঁচ হাজার আইন কর্মকর্তা নিয়োগ দেওয়া হলেও সেখানে তার কোনো আত্মীয়কে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।

তবে কিছু সামাজিক ও প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগে সহায়তার কথা তিনি উল্লেখ করেন। যেমন—লালবাগ শাহী মসজিদের জরুরি সংস্কারের জন্য ধর্ম মন্ত্রণালয়ের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পেতে ভূমিকা রাখা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠ উন্নয়নের জন্য ক্রিকেট বোর্ডের কাছে অনুদান আনার অনুরোধ করা।

রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর বাংলাদেশে ক্ষমতাসীন বা সাবেক নীতিনির্ধারকদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠা নতুন কোনো ঘটনা নয়। অনেক সময় রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ছড়ানো কিংবা অসম্পূর্ণ তথ্যের কারণে এ ধরনের বিতর্ক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের যুগে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলে তা দ্রুত জনমনে প্রভাব ফেলে। তাই অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং স্বচ্ছ ব্যাখ্যা দেওয়া—দুই পক্ষের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ।

আসিফ নজরুলের এই বক্তব্য মূলত তার বিরুদ্ধে চলমান সমালোচনা ও গুজবের জবাব হিসেবে এসেছে। তবে অভিযোগ ও পাল্টা বক্তব্যের এই পরিস্থিতিতে স্বচ্ছ তদন্ত বা নিরপেক্ষ যাচাইই শেষ পর্যন্ত জনমনে আস্থা ফিরিয়ে আনতে পারে বলে মনে করেন বিশ্লেষকরা।