খেলাপি ঋণ কমাতে নতুন কৌশল: আদালতের আগে মধ্যস্থতায় সমাধানে জোর

ব্যাংক খাতে বাড়তে থাকা খেলাপি ঋণ দ্রুত আদায়ের লক্ষ্যে আদালতের বাইরে বিরোধ নিষ্পত্তির প্রক্রিয়া জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। মামলা দায়েরের আগেই মধ্যস্থতার মাধ্যমে সমাধান খুঁজে বের করতে ব্যাংকগুলোকে আরও সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

বুধবার (১১ মার্চ ) কেন্ব্যাংদ্রীয় ব্যাংকের ব্যাংকিং প্রবিধি ও নীতি বিভাগ থেকে জারি করা এক নির্দেশনায় দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে বলা হয়েছে। এতে উল্লেখ করা হয়, ঋণসংক্রান্ত বিরোধ দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য বিকল্প বিরোধ নিষ্পত্তি পদ্ধতি বা অল্টারনেটিভ ডিসপিউট রেজ্যুলেশন (এডিআর) ব্যবহারের ওপর গুরুত্ব বাড়াতে হবে।

বিশেষ করে আদালতে মামলা দায়েরের আগেই সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমঝোতার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান করার ‘প্রি-সুট মিডিয়েশন’ প্রক্রিয়া কার্যকরভাবে প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মনে করছে, এই পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া এড়ানো সম্ভব হবে এবং সময় ও অর্থ—দুটোই সাশ্রয় হবে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, চলতি বছরের ৩০ জুনের মধ্যে প্রতিটি ব্যাংককে এডিআর ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের মোট খেলাপি ঋণের অন্তত ১ শতাংশ নগদ আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করতে হবে। এ লক্ষ্য পূরণে দক্ষ ও অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের কথাও বলা হয়েছে।

মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু যোগ্যতা নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে স্বীকৃত কোনো মধ্যস্থতা প্রতিষ্ঠানের তালিকাভুক্ত হতে হবে এবং আইন, ব্যাংকিং, বাণিজ্য বা করপোরেট ব্যবস্থাপনায় অন্তত সাত বছরের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। পাশাপাশি বাণিজ্যিক বিরোধ নিষ্পত্তি বা ব্যাংকিং খাতে অন্তত তিন বছরের বাস্তব অভিজ্ঞতা থাকা প্রয়োজন।

এ ছাড়া ব্যাংকিং নীতিমালা সম্পর্কে ভালো ধারণা, পেশাগত প্রশিক্ষণ, নিরপেক্ষতা বজায় রাখার সক্ষমতা এবং গোপনীয়তা রক্ষার দক্ষতা—এসব বিষয়ও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অপরাধে দণ্ডিত, আর্থিক অনিয়মে অভিযুক্ত, ঋণখেলাপি বা আদালত কর্তৃক দেউলিয়া ঘোষিত ব্যক্তিদের এ দায়িত্বে নিয়োগ না করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ দীর্ঘদিন ধরেই বড় একটি চ্যালেঞ্জ। অনেক ক্ষেত্রে আদালতে মামলা চলতে চলতে বছরের পর বছর পার হয়ে যায়, ফলে অর্থ উদ্ধার বিলম্বিত হয় এবং ব্যাংকের আর্থিক সক্ষমতাও দুর্বল হয়ে পড়ে।

এ পরিস্থিতিতে আদালতের বাইরে দ্রুত সমঝোতার মাধ্যমে সমাধান বের করার উদ্যোগ কার্যকর হলে ব্যাংকগুলোর তারল্য পরিস্থিতি কিছুটা উন্নত হতে পারে। একই সঙ্গে ঋণগ্রহীতাদের জন্যও একটি আলোচনাভিত্তিক সমাধানের সুযোগ তৈরি হবে। তবে এই ব্যবস্থা সফল করতে হলে স্বচ্ছতা, দক্ষ মধ্যস্থতাকারী এবং ব্যাংকগুলোর সক্রিয় উদ্যোগ—এই তিনটি বিষয় নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।