জাতীয় সংসদ ভবন তে ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত চলবে

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হবে। সম্প্রতি জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদীয় কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে অধিবেশনের সময়সূচি ও কার্যপরিধি চূড়ান্ত করা হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ, উপস্থিত ছিলেন কমিটির সদস্য, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং সংসদের অন্যান্য সিনিয়র নেতারা।

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সরকারি ছুটির দিন ব্যতীত প্রতিদিন বিকেল ৩টায় অধিবেশনের কার্যক্রম শুরু হবে। তবে বিশেষ প্রয়োজনে স্পিকারের কাছে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস পরিবর্তনের পূর্ণ ক্ষমতা রাখা হয়েছে।

এই অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর সদস্যদের বক্তব্য ও আলোচনা পরিচালিত হবে মোট ৫০ ঘণ্টার নির্ধারিত সময়ে। এটি প্রতিফলিত করে যে সংসদ সক্রিয়ভাবে নীতি-নির্ধারণী বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিচ্ছে।

সংসদ সচিবালয় জানিয়েছে, এ পর্যন্ত মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন জমা পড়েছে, যার মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীদের জন্য ৪৬০টি প্রশ্ন। এছাড়া জনগুরুত্বপূর্ণ বিষয় ও সিদ্ধান্ত-প্রস্তাবের জন্য যথাক্রমে ২৭টি ও ৯৭টি নোটিশ পাওয়া গেছে। এটি বোঝায় যে সংসদ সদস্যরা শুধুমাত্র প্রশ্নের মাধ্যমে নয়, বরং নীতিগত প্রস্তাব ও মনোযোগ আকর্ষণের মাধ্যমেও সরকারের ওপর নজর রাখছেন।

বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান সহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে বিশেষ আমন্ত্রণে অংশ নেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা বৈঠকে সেচিবিক সহায়তা প্রদান করেন।

ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন কেবল আনুষ্ঠানিকতার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি সরকারের নীতি-নির্ধারণ ও বিরোধী মনোভাবের মধ্যে ভারসাম্য স্থাপনের একটি পরীক্ষা। ৫০ ঘণ্টার রাষ্ট্রপতির ভাষণ আলোচনার সময় নির্ধারণ স্পষ্ট করে যে সরকার এবং বিরোধী দল উভয়ই নীতি-নির্ধারণী বিষয়ে সক্রিয় ভূমিকা রাখবে। প্রশ্ন ও নোটিশের সংখ্যা দেখাচ্ছে সংসদ সদস্যরা জনগণের স্বার্থে বিস্তারিত তদারকি চালাতে প্রস্তুত।