ঈদযাত্রায় বিকল্প নৌপথ: বছিলা ও শিমুলিয়া ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস ১৭ মার্চ থেকে

পবিত্র ঈদুল ফিতর সামনে রেখে দক্ষিণাঞ্চলের ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত সহজ করতে রাজধানীর দুটি নতুন ঘাট থেকে বিশেষ লঞ্চ ও স্টিমার সার্ভিস চালু করা হচ্ছে। ঢাকার বছিলা লঞ্চঘাট এবং পূর্বাচলের কাঞ্চন ব্রিজসংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে ১৭ মার্চ থেকে এই বিশেষ নৌযান চলাচল শুরু হবে।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঈদ উপলক্ষে নৌপথে যাত্রীদের চাপ কমানো এবং নিরাপদ যাতায়াত নিশ্চিত করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কার্যক্রমটি বাস্তবায়ন করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ।

কাঞ্চন ব্রিজসংলগ্ন শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে শিমুলিয়া–ডেমরা–নারায়ণগঞ্জ–চাঁদপুর–কালিগঞ্জ–হিজলা হয়ে বরিশাল পর্যন্ত নৌযান চলাচলের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অন্যদিকে ঢাকার বছিলা ব্রিজসংলগ্ন বছিলা লঞ্চঘাট থেকে বছিলা–সদরঘাট–মুন্সিগঞ্জ–চাঁদপুর–ঈদগা ফেরিঘাট এবং শরীয়তপুর–ইলিশা–হাকিমুদ্দিন–গলাচিপা রুটে যাত্রী পরিবহনের ব্যবস্থা থাকবে।

এই বিশেষ ব্যবস্থার মাধ্যমে রাজধানীর প্রধান নৌবন্দর সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল-এর অতিরিক্ত চাপ কমবে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, আগামী ১৭ মার্চ থেকে ঈদের আগের দিন পর্যন্ত বছিলা ঘাট থেকে ৬টি এবং শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে ৩টি লঞ্চ বিভিন্ন রুটে বিশেষ সার্ভিসে যাত্রী পরিবহন করবে।

বছিলা লঞ্চঘাট থেকে সকাল ৭টায় হাকিমুদ্দিন রুটে এমভি টিপু লঞ্চ যাত্রা শুরু করবে। সকাল সাড়ে ৮টায় শরীয়তপুর রুটে এমভি ইমাম হাসান-৫, বেলা ১১টায় চাঁদপুর রুটে এমভি ঈগল-৪ এবং দুপুর ১২টায় ইলিশা রুটে এমভি টিপু-৬ লঞ্চ ছেড়ে যাবে।

দুপুর দেড়টায় গলাচিপা রুটে এমভি বোগদাদীয়া-১২ ও এমভি শরিয়তপুর-৩ যাত্রা করবে। বিকেল সাড়ে ৫টায় ইলিশা রুটে এমভি ইয়াদ-১ লঞ্চ ছাড়বে।

শিমুলিয়া ট্যুরিস্ট ঘাট থেকে সকাল ৮টায় চাঁদপুর রুটে এমভি সমতা অ্যান্ড সমৃদ্ধি এক্সপ্রেস লঞ্চ এবং সকাল ৯টায় এমভি সমতা সমৃদ্ধি-১ যাত্রা করবে।

এছাড়া সকাল ৮টায় শিমুলিয়া থেকে বরিশালের উদ্দেশ্যে এমভি রাজারহাট বি লঞ্চ ছেড়ে যাবে এবং একই লঞ্চ বরিশাল থেকে সন্ধ্যা ৭টায় শিমুলিয়ার উদ্দেশ্যে যাত্রা করবে।

ঈদযাত্রাকে স্বস্তিদায়ক করতে সদরঘাট এলাকায় প্রবীণ ও নারী যাত্রীদের মালামাল বহনের জন্য ১৭ মার্চ থেকে ২৮ মার্চ পর্যন্ত বিনামূল্যে কুলি বা পোর্টার সেবা দেওয়া হবে।

এছাড়া অসুস্থ ও শারীরিকভাবে প্রতিবন্ধী যাত্রীদের জন্য সদরঘাট ও বরিশাল নদীবন্দরে হুইলচেয়ার সেবার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

নৌপথে যাত্রীদের নিরাপদ ও সুশৃঙ্খল যাত্রা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যাত্রীদের নির্ধারিত নৌপথ ব্যবহার করে ভ্রমণ করার জন্যও অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।

কোনো জরুরি প্রয়োজন বা সেবা সংক্রান্ত সমস্যায় যাত্রীরা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ-এর হটলাইন নম্বর ১৬১১৩–এ যোগাযোগ করতে পারবেন।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী ২০ বা ২১ মার্চ দেশে ঈদুল ফিতর উদযাপিত হতে পারে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, বিকল্প ঘাট ব্যবহার এবং বিশেষ লঞ্চ সার্ভিস চালুর ফলে এবারের ঈদযাত্রা আরও নিরাপদ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় হবে।