বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক বাস্তবতায় জাতীয়তাবাদ, বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ—এই তিনটি উপাদানকে সুস্থ রাজনৈতিক ধারার ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরেছেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেছেন, এসব মূল্যবোধ রক্ষা এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার দৃঢ় অবস্থানে রয়েছে।
শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব-এর জহুর হোসেন চৌধুরী মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। সভাটি ছিল বিশিষ্ট রাজনীতিক মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়া-এর ৪৭তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে।
মন্ত্রী বলেন, দেশের বর্তমান সরকার তারেক রহমান-এর নেতৃত্বে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে রাজনীতি পরিচালনা করছে। তার ভাষায়, “সবার আগে বাংলাদেশ”—এই নীতির মাধ্যমেই দেশের রাজনীতিকে নতুনভাবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চলছে।
তিনি আরও বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধকে রাজনৈতিক বা বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রবণতা থেকে রক্ষা করা গেলে দেশের সামাজিক স্থিতি আরও শক্তিশালী হবে।
বক্তব্যে মন্ত্রী প্রয়াত নেতা মশিয়ূর রহমান যাদু মিয়ার রাজনৈতিক অবদানের কথাও তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন, যাদু মিয়া ছিলেন এমন এক নেতা যিনি ধানের শীষ প্রতীককে মাওলানা আবদুল হামিদ খান ভাসানী-এর রাজনৈতিক ধারার সঙ্গে যুক্ত রেখে পরবর্তীতে জিয়াউর রহমান-এর হাতে তুলে দেন।
মন্ত্রী বলেন, সেই ধারাবাহিকতায় নেতৃত্ব পরে আসে খালেদা জিয়া-এর কাছে এবং বর্তমানে তা তারেক রহমানের নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে।
বক্তব্যে তিনি সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচন এবং নতুন সংসদের যাত্রা নিয়েও কথা বলেন। তার মতে, একটি মহল নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার চেষ্টা করলেও শেষ পর্যন্ত গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রেখেই তা সম্পন্ন হয়েছে।
তিনি বলেন, নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু হওয়াকে তিনি দেশে সংসদীয় রাজনীতির নতুন অধ্যায় হিসেবে দেখছেন।
আলোচনায় ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী। তিনি বলেন, তৎকালীন একদলীয় শাসনব্যবস্থার কারণে দেশ রাজনৈতিক অস্থিরতায় পড়েছিল। পরবর্তীতে রাজনৈতিক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয় এবং সেই সময় বিভিন্ন নেতা শহীদ জিয়াউর রহমানের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ছড়াকার আবু সালেহ। প্রধান বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বুদ্ধিজীবী ড. মাহবুব উল্লাহ। এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতারাও অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন।
