ফাঁকা সড়ক, কিন্তু পাম্পে চাপ: ঈদ ছুটিতে ঢাকায় জ্বালানি সংকটের আভাস

ঈদের ছুটিতে রাজধানীর সড়ক অনেকটাই ফাঁকা হয়ে গেলেও উল্টো চিত্র দেখা যাচ্ছে পেট্রোল পাম্পগুলোতে। শহরের বিভিন্ন স্থানে যানবাহনের দীর্ঘ সারি, সীমিত পরিমাণে জ্বালানি বিক্রি এবং কোথাও কোথাও অকটেন সংকট—সব মিলিয়ে ভোগান্তিতে পড়ছেন চালকরা।

বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে বিকেল পর্যন্ত রাজধানীর একাধিক পাম্প ঘুরে দেখা গেছে, বিশেষ করে মোটরসাইকেলের লাইন ছিল চোখে পড়ার মতো দীর্ঘ। বেশ কয়েকটি পাম্পে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে জ্বালানি দেওয়া হচ্ছিল—অনেক জায়গায় ৫০০ টাকার বেশি পেট্রোল বা অকটেন দেওয়া হয়নি। এতে করে লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও অনেক চালককে প্রয়োজনীয় জ্বালানি না নিয়েই ফিরতে হয়েছে।

কিছু পাম্পে অকটেন সম্পূর্ণ শেষ হয়ে যাওয়ায় অকটেনচালিত যানবাহনগুলোকে ফেরত যেতে দেখা গেছে। আবার কোথাও দুপুরের আগেই মজুদ শেষ হয়ে যাওয়ায় সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়েছে। সংশ্লিষ্ট পাম্প কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ডিপো থেকে জ্বালানি বহনকারী ট্যাংকার রওনা দিলেও সময়মতো না পৌঁছানোর কারণেই এই সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে।

রাজারবাগ এলাকায় একটি পাম্পে মাইকিং করে অকটেন না থাকার ঘোষণা দেওয়া হচ্ছিল, তবুও পেট্রোলের জন্য মোটরসাইকেলের দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে। একইভাবে শাহবাগ এলাকায়ও অকটেন নিতে বাইকারদের ভিড় ছিল উল্লেখযোগ্য। তবে বিকেলের দিকে মজুদ শেষ হয়ে গেলে সেখানে সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়া হয়।

পরীবাগ এলাকার একটি রাষ্ট্রীয় পাম্পে যানবাহনের চাপ এতটাই বেড়েছিল যে লাইন প্রধান সড়ক ছাড়িয়ে অনেক দূর পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। পাশের আরেকটি বেসরকারি পাম্পে তুলনামূলক ভিড় কম থাকলেও সামগ্রিকভাবে সরবরাহের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট ছিল।

চালক ও গ্রাহকদের মধ্যে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ মনে করছেন, পাম্পে পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকলেও তা নিয়ন্ত্রিতভাবে সরবরাহ করা হচ্ছে। তবে পাম্প সংশ্লিষ্টদের দাবি, ডিপো থেকে সময়মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি না পৌঁছানোয় তারা চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহ করতে পারছেন না।

 সরবরাহ চেইনের চাপেই সংকটের ইঙ্গিত

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঈদ মৌসুমে রাজধানী ফাঁকা হলেও নির্দিষ্ট সময়ে জ্বালানি নেওয়ার প্রবণতা বেড়ে যায়—বিশেষ করে যারা দূরপাল্লার যাত্রার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। ফলে স্বল্প সময়ের মধ্যে চাহিদা বেড়ে গিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হয়।

এই পরিস্থিতি সামাল দিতে ডিপো থেকে পাম্প পর্যন্ত সরবরাহ ব্যবস্থার সমন্বয় বাড়ানো জরুরি বলে মনে করছেন তারা। পাশাপাশি, আতঙ্কে অতিরিক্ত জ্বালানি মজুদ না করে প্রয়োজন অনুযায়ী নেওয়ার জন্যও সচেতনতা বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর সড়ক ফাঁকা থাকলেও পেট্রোল পাম্পগুলোতে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তা জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার সাময়িক দুর্বলতাকেই সামনে নিয়ে এসেছে। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতি আবার নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।