ঈদকে ঘিরে যখন সারা দেশে উৎসবের আমেজ, ঠিক সেই সময় একের পর এক সড়ক ও রেল দুর্ঘটনা জনমনে গভীর শোক ও উদ্বেগ তৈরি করেছে। কুমিল্লায় রেলক্রসিংয়ে বাস-ট্রেন সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করে সরকারপ্রধান তারেক রহমান তাৎক্ষণিকভাবে কারণ অনুসন্ধান ও দায় নির্ধারণের নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে ফেনী, হবিগঞ্জ ও জামালপুরসহ বিভিন্ন স্থানের দুর্ঘটনায় নিহতদের প্রতিও তিনি সমবেদনা জানিয়েছেন।
সরকারি সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার দুর্ঘটনাটি ঘটে গভীর রাতে, যখন একটি যাত্রীবাহী বাস রেললাইন অতিক্রম করার সময় ট্রেনের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে, যা সাম্প্রতিক সময়ের বড় ট্র্যাজেডিগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর আগে বগুড়ায় ট্রেন লাইনচ্যুতির ঘটনার পরই রেল নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল—এই নতুন দুর্ঘটনা সেই উদ্বেগকে আরও তীব্র করেছে।
প্রধানমন্ত্রী দ্রুত তদন্তের ওপর জোর দিয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে বলেছেন। ইতোমধ্যে তিনটি পৃথক তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে—রেলওয়ের পক্ষ থেকে দুটি এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি। প্রতিটি কমিটিকে ৭২ ঘণ্টার মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে, যাতে দ্রুত দায়ীদের চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
আহতদের চিকিৎসা নিশ্চিত করতে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাকে সর্বোচ্চ প্রস্তুত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নিহতদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে কিছু দায়িত্বশীল ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, এবং তদন্তের ভিত্তিতে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন সরকারপ্রধান।
বারবার রেলক্রসিং দুর্ঘটনা দেশের পরিবহন ব্যবস্থার একটি বড় দুর্বলতা সামনে নিয়ে আসছে। বিশেষজ্ঞদের মতে,
- অনেক ক্রসিংয়ে এখনও স্বয়ংক্রিয় গেট বা পর্যাপ্ত সিগন্যালিং ব্যবস্থা নেই
- স্থানীয়ভাবে নিয়ম অমান্য করার প্রবণতা বেশি
- তদারকির ঘাটতি ও দায়িত্বে অবহেলা পরিস্থিতিকে আরও ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলছে
এছাড়া ঈদযাত্রার সময় যানবাহনের চাপ বাড়ায় চালকদের ঝুঁকি নেওয়ার প্রবণতাও বাড়ে, যা দুর্ঘটনার সম্ভাবনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে স্পষ্ট করে দিয়েছেন, জননিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো ধরনের গাফিলতি বরদাশত করা হবে না। রেলক্রসিং ব্যবস্থাপনা, সেতু নিরাপত্তা এবং সামগ্রিক পরিবহন ব্যবস্থার দুর্বল দিকগুলো দ্রুত শনাক্ত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, ঈদের মতো আনন্দঘন সময়ে এ ধরনের প্রাণহানি অত্যন্ত মর্মান্তিক। প্রতিটি জীবন অমূল্য—এই উপলব্ধি থেকেই নিরাপত্তা জোরদারে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।
