
ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটি শেষে মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) থেকে আবারও শুরু হয়েছে সরকারি দপ্তরের নিয়মিত কার্যক্রম। তবে প্রথম কর্মদিবসেই রাজধানীর প্রশাসনিক কেন্দ্র সচিবালয়ে পুরোপুরি কর্মব্যস্ততা ফিরে আসেনি। কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি তুলনামূলক কম থাকায় অনেক দপ্তরেই কাজের গতি কিছুটা ধীর ছিল।
সকাল ৯টা থেকে অফিস কার্যক্রম শুরু হলেও দিনের শুরুতে অনেক কক্ষ ফাঁকা দেখা যায়। বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের সেকশন ঘুরে দেখা গেছে, অনেক কর্মকর্তা-কর্মচারী এখনও ছুটিতে রয়েছেন। বিশেষ করে যারা একসঙ্গে একই কক্ষে কাজ করেন, তাদের মধ্যে কয়েকজনের অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে। তবে উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তা—উপসচিব থেকে অতিরিক্ত সচিব পর্যন্ত—বেশিরভাগই উপস্থিত ছিলেন।
প্রথম দিন হওয়ায় দাপ্তরিক কাজের চেয়ে বেশি গুরুত্ব পেয়েছে ঈদের শুভেচ্ছা বিনিময়। সহকর্মীদের সঙ্গে কোলাকুলি, আলাপচারিতা ও আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে দিনটির বড় একটি অংশ কেটেছে। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সচিবরাও নিজ নিজ দপ্তরে এসে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন, যা পুরো সচিবালয়ে এক ধরনের উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করে।
এদিন নির্ধারিত সময়েই সকাল ৯টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ে উপস্থিত হন। অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরাও সময়মতো অফিসে যোগ দেন। তবে কাজের চাপ তুলনামূলক কম থাকায় জরুরি ফাইল ছাড়া বড় কোনো সিদ্ধান্তমূলক কার্যক্রম খুব একটা এগোয়নি বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
কর্মকর্তাদের অনুপস্থিতির অন্যতম কারণ হিসেবে জানা গেছে, মাঝখানে আবার টানা ছুটি থাকায় অনেকেই ঐচ্ছিক ছুটি নিয়েছেন। মঙ্গলবার ও বুধবার অফিস খোলা থাকলেও বৃহস্পতিবার স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ছুটি, এরপর শুক্র ও শনিবার সাপ্তাহিক বন্ধ। ফলে অনেকে এই দুই কর্মদিবস ছুটি নিয়ে দীর্ঘ বিরতি কাটানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
সচিবালয়ের বিভিন্ন দপ্তর—যেমন গৃহায়ন ও গণপূর্ত, খাদ্য, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, বিদ্যুৎ, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়—সব জায়গাতেই উপস্থিতি কিছুটা কম দেখা গেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা জানান, অধিকাংশ কর্মকর্তা উপস্থিত থাকলেও অনেক কর্মচারী ছুটিতে থাকায় কাজের চাপ কম ছিল এবং পূর্ণমাত্রায় কার্যক্রম শুরু হতে আরও কয়েকদিন লাগবে।
দর্শনার্থীদের উপস্থিতিও ছিল তুলনামূলকভাবে কম। ফলে ভবনগুলোর লিফটের সামনে অন্য দিনের মতো ভিড় দেখা যায়নি। যারা সেবা নিতে এসেছেন, তারা দ্রুত কাজ সম্পন্ন করতে পেরেছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে কর্মকর্তাদের গাড়িতে পার্কিং এলাকা প্রায় পূর্ণ থাকায় বোঝা গেছে, উচ্চপদস্থদের উপস্থিতি স্বাভাবিক ছিল।
এদিকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, এবারের ঈদ ছিল ভিন্নধর্মী, কারণ দেশের মানুষ দীর্ঘদিন পর তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পেরেছে এবং নিজেদের পছন্দের সরকার গঠন করেছে। তাই তারা আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করেছে।
সব মিলিয়ে, ঈদের আমেজ এখনও কাটেনি সচিবালয়ে। তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, ধীরে ধীরে উপস্থিতি বাড়বে এবং আগামী রোববার (২৯ মার্চ) থেকে প্রশাসনের এই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র পুরোপুরি স্বাভাবিক কর্মচাঞ্চল্যে ফিরে আসবে।
