দেশে উড়োজাহাজে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দামে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, প্রতি লিটারে প্রায় ৯০ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে এই জ্বালানির মূল্য, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ৮০ ভাগ বৃদ্ধি।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার সর্বশেষ ঘোষণায় বলা হয়েছে, অভ্যন্তরীণ ফ্লাইটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দাম শুল্ক ও ভ্যাটসহ লিটারপ্রতি ১১২ টাকা ৪১ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ২০২ টাকা ২৯ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে লিটারপ্রতি বৃদ্ধি পেয়েছে ৮৯ টাকা ৮৮ পয়সা। ফলে স্বল্প সময়ের ব্যবধানে এই জ্বালানির দামে বড় ধরনের চাপ তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে আন্তর্জাতিক রুটে ব্যবহৃত জেট ফুয়েলের দামও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হয়েছে। শুল্ক ও মুসক ছাড়া প্রতি লিটার জ্বালানির দাম ০.৭৩৮৪ মার্কিন ডলার থেকে বাড়িয়ে ১.৩২১৬ ডলার নির্ধারণ করা হয়েছে। এই ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার প্রায় ৭৯ শতাংশ।
নতুন এই মূল্যহার মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে কার্যকর হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
চলতি মাসে এটি জেট ফুয়েলের দ্বিতীয় দফা মূল্য সমন্বয়। এর আগে ৮ মার্চ এক দফা দাম বাড়ানো হয়েছিল। তখন অভ্যন্তরীণ রুটে লিটারপ্রতি দাম ৯৫ টাকা ১২ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১১২ টাকা ৪১ পয়সা করা হয়। আন্তর্জাতিক রুটে একই সময়ে দাম ০.৬২৫৭ ডলার থেকে ০.৭৩৮৪ ডলারে উন্নীত করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে ১৯ মার্চ আবারও দাম বাড়ানোর একটি ঘোষণা দেওয়া হলেও তা কিছুক্ষণের মধ্যেই স্থগিত করা হয়। তবে কয়েকদিনের ব্যবধানে নতুন করে আরও বড় হারে মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে।
নিয়ন্ত্রক সংস্থার মতে, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির দামের অস্থিরতা, ডলারের বিনিময় হার বৃদ্ধি এবং পরিবহন ব্যয়ের চাপ বিবেচনায় এই সমন্বয় করা হয়েছে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত পরিস্থিতির কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে যে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, সেটিই এই মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম প্রধান কারণ।
ফেব্রুয়ারি মাসের দামের সঙ্গে তুলনা করলে বর্তমান বৃদ্ধি আরও স্পষ্ট হয়ে ওঠে। অভ্যন্তরীণ রুটে লিটারপ্রতি দাম বেড়েছে ১০৭ টাকা ১৭ পয়সা, যা শতাংশের হিসাবে প্রায় ১১৩ ভাগ। একই সময়ে আন্তর্জাতিক রুটে প্রতি লিটারে প্রায় ০.৬৯৫৯ ডলার বেড়েছে, যা ১১১ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি নির্দেশ করে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জেট ফুয়েলের এমন বড় ধরনের মূল্যবৃদ্ধি বিমান ভাড়া ও পরিবহন খাতে সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ রুটের টিকিট মূল্য বাড়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে এয়ারলাইন্সগুলোর পরিচালন ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
সামগ্রিকভাবে, স্বল্প সময়ের ব্যবধানে ধারাবাহিক মূল্যবৃদ্ধির ফলে দেশের বিমান খাতে একটি নতুন চাপের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এখন নজর থাকবে, এই বাড়তি খরচ কতটা যাত্রীদের ওপর প্রভাব ফেলে এবং বাজার কত দ্রুত স্থিতিশীল হয়।
